অ্যাস্টেরয়েডের আঘাতের ঝুঁকিতে পৃথিবী । ভারতের জন্য বড় হুমকি !

নাসার অ্যাস্টেরয়েড টেরেস্ট্রিয়াল-ইমপ্যাক্ট লাস্ট অ্যালার্ট সিস্টেম (ATLAS) সম্প্রতি চিলিতে অ্যাস্টেরয়েড ২০২৪ YR4 শনাক্ত করেছে, যা ২২ ডিসেম্বর ২০৩২ সালে পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই নিও (Near-Earth Object) বা পৃথিবীর কাছাকাছি আসা মহাকাশ বস্তুটির ব্যাস প্রায় ১৩০ থেকে ৩০০ ফুট এবং এটি “সিটি কিলার” হিসেবে পরিচিত, কারণ এটি কোনো শহরের উপর আঘাত হানলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে এর পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা ১% হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় এই সম্ভাবনা বেড়ে ২.৩% হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এই অ্যাস্টেরয়েডের সম্ভাব্য আঘাতের করিডোর বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে রয়েছে, যার মধ্যে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর, উত্তর দক্ষিণ আমেরিকা, সাব-সাহারান আফ্রিকার কিছু অংশ, আটলান্টিক মহাসাগর, আরব সাগর এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর গতিপথ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর প্রভাব পড়তে পারে। যদি এটি কোনো শহরের উপর আঘাত হানে, তবে তা ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হতে পারে। এমনকি যদি এটি সমুদ্রে আঘাত হানে, তবে শক্তিশালী সুনামির সৃষ্টি হতে পারে, যা উপকূলবর্তী এলাকাগুলোর জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

এই বিপদের মুখে আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলো ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলো পর‍্যবেক্ষণ কার‍্যক্রম জোরদার করেছে। নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) এবং অন্যান্য বৈশ্বিক সংস্থাগুলো অত্যাধুনিক পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, যার মধ্যে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপও রয়েছে, ব্যবহার করে অ্যাস্টেরয়েডটির কক্ষপথ সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে, এটিকে টোরিনো ইমপ্যাক্ট হ্যাজার্ড স্কেলে ৩ নম্বর ঝুঁকি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যা এটিকে এখন পর্যন্ত একমাত্র পরিচিত অ্যাস্টেরয়েড হিসেবে চিহ্নিত করেছে যার ঝুঁকি শূন্যের উপরে। এই শ্রেণিবিন্যাস এটি পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

যদিও পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম, তবে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। ১৯০৮ সালের তুঙ্গুসকা ঘটনার মতো অতীতের নজির রয়েছে, যেখানে একই আকারের একটি অ্যাস্টেরয়েড সাইবেরিয়ার বিশাল অঞ্চল ধ্বংস করেছিল। এই ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে বর্তমানে প্রতিরক্ষা কৌশল, যেমন অ্যাস্টেরয়েডকে তার কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মিশন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং বিজ্ঞানীরা ক্রমাগত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আরও নিখুঁত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন