অন্তর্বর্তী সরকার এখনো পুরোপুরি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি এবং এ বছর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হবে – রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘গত সাত মাসে আমরা সবাই আশা করেছিলাম, স্বল্পমেয়াদি সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশিং ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে। এটা একটা মাত্রায় ঘটেছে, কিন্তু আমাদের প্রত্যাশামতো হয়নি।’ এনসিপিপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশিং ব্যবস্থায় আমি মনে করি না, একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে।’ নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন যখনই হোক, তার জন্য প্রস্তুত থাকবে এনসিপি (যে দলটি গেল সপ্তাহেই গঠিত হয়েছে)।
অবশ্য নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ‘জুলাই বিপ্লবের প্রোক্লেমেশন’ নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছানো জরুরি। এটা একটা সনদ হবে, যেটা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা যদি এক মাসের মধ্যে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারি, তাহলে আমরা দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান জানাতে পারব। কিন্তু এর জন্য যদি আরও সময় লাগে, তাহলে নির্বাচন বিলম্বিত হবে।’ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশজুড়ে অনেক সম্পদশালী ব্যক্তি তাঁদের দলকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করছেন। তিনি আরও বলেন, দলের জন্য নতুন কার্যালয় চালু এবং নির্বাচনের জন্য একটি তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে তাঁরা শিগগির ‘ক্রাউডফান্ডিং’-এর (সাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ) দিকে যাবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চলতি মাসেই বলেছেন, অস্থিরতা চলতে থাকলেও ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নাহিদ ইসলামই প্রথম রাজনীতিক, যিনি নির্বাচন আয়োজন নিয়ে ড. ইউনূসের দেওয়া সময়সীমা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করলেন।


