গত ৯ এপ্রিল মার্কিন অস্ত্র রফতানিতে বিধিনিষেধ শিথিল করতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ২০ এপ্রিল উত্তর কোরিয়া বলেছে, যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ বলেছে – যুক্তরাষ্ট্র দু নৌকায় পা রেখে চলতে চাইছে। তারা একদিকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সংকট সমাধানে আলোচনা ও সমঝোতার পরামর্শ দিয়ে চলেছে। অন্যদিকে তারাই আবার ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের সবরকম অস্ত্র বিলিয়ে যাচ্ছে। এতে যুদ্ধবাজদের মধ্যে যুদ্ধ প্রলম্বিত করার উৎসাহ সৃষ্টি হবে।
হোয়াইট হাউজে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই মস্কো ও কিয়েভের ওপর যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছেন ট্রাম্প। অথচ একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির নিয়ম-কানুন পর্যালোচনা ও সহজ করতে ওই নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। রয়টার্স জানায়, নতুন এই নীতির ফলে লকহিড মার্টিন, আরটিএক্স ও বোয়িংয়ের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিক্রি বাড়তে পারে। এ প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা উইল শার্ফ বলেছেন,“এর ফলে একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহ করা যাবে।”
বর্তমানে মার্কিন আইন অনুযায়ী, অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশ কতটা ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং বিক্রির পরিমাণ কেমন, তার ওপর ভিত্তি করে কংগ্রেস পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ট্রাম্প কংগ্রেসের কিছু সদস্যের মানবাধিকার বা অন্যান্য ইস্যুতে বিদেশে অস্ত্র বিক্রি বিলম্বিত করার প্রবণতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। ২০১৯ সালে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে কংগ্রেসের পর্যালোচনার দীর্ঘদিনের রেওয়াজ উপেক্ষা করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে ৮০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করেন। ওই সময় কংগ্রেস ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ ও সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় এসব বিক্রি আটকে রেখেছিল।


