কর দেওয়ার উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও যাঁরা ফাঁকি দিচ্ছেন, তাঁদের শাস্তির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা। এ জন্য আইন প্রণয়নেরও সুপারিশ করেন তাঁরা। অর্থনীতিবিদদের কাছ থেকে এমন পরামর্শও আসে যে – যাদের দুটি বাড়ি, দুটি গাড়ি ও এক কোটি টাকার বেশি ব্যাংকে আমানত আছে, তাঁদের কাছ থেকে যেন প্রত্যক্ষ, অর্থাৎ বাড়তি কর আদায় করা হয়। রোববার অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাক্-বাজেট আলোচনায় অর্থনীতিবিদেরা করদাতার সংখ্যা ও রাজস্ব বাড়াতে এসব পরামর্শ দেন।
অর্থনীতিবিদরা সাধারণ নাগরিকদের আর্থিক চাপ কমাতে প্রত্যক্ষ করের দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার এবং কর্পোরেট করের কাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। আলোচনা শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এটি (কর ফাঁকিদাতাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য আইন প্রণয়ন) বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিইনি, কারণ এর সঙ্গে আইনি জটিলতা জড়িত। অন্যান্য দেশেও এ ধরনের আইন রয়েছে, যেখানে কর ফাঁকিদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ব্যবস্থা আছে।”
তিনি জানান — প্রায় সবাই পরামর্শ দিয়েছেন বাজেট যেন উচ্চাভিলাষী না করা হয়। তা করা হবেও না। আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা থাকবে। আর মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সভায় মূল্যস্ফীতির সংকট নিয়েও আলোচনা হয়, যেখানে জোর দেওয়া হয় যে শুধুমাত্র মুদ্রানীতির মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি, বাফার স্টক স্কিম ও ওপেন মার্কেট অপারেশনের মতো ব্যবস্থা শক্তিশালী করা দরকার।
অর্থনীতিবিদরা আরো যেসব পরামর্শ দিয়েছেন — টিসিবি মজুত ব্যবস্থা ভালো রাখা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ভাতা কার্যকরভাবে বিতরণ, প্রয়োজনে টিসিবির কার্ডধারীর সংখ্যা ১ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ২০ লক্ষে উন্নীত করা, ভালো গবেষণা করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও গবেষণা করতে প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করা, প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে হঠাৎ ব্যয় বৃদ্ধির বদলে সারা বছর গুরুত্বের সঙ্গে ব্যয়ের ব্যবস্থা করা, বাজেটে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা, কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ইত্যাদি।


