সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অর্থনীতি এখনও ছয় মাস আগের ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি। তবে কয়েকটি সূচকে উন্নতি এবং আরও কয়েকটি সূচক নিয়ন্ত্রণে থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।’ গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। তবে তার প্রভাব পড়েছে সামান্য। এখনো খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম অনেক বেশি। গত কয়েক বছর ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩-২৪ শতাংশে স্থির হয়ে আছে। এছাড়াও বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণের চিত্রও আশার আলো দেখাচ্ছে না। আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিনিয়োগ খাতে অনিশ্চয়তার কারণে টানা পঞ্চম মাসের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণের প্রবাহ কমেছে।
মোস্তাফিজুর রহমানের মতে স্থবিরতার এই ধারা চলমান। ‘দেখে মনে হচ্ছে অর্থনীতি দুষ্টচক্রে পড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বাড়ছে যেটা বেসরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে।’ প্রায় ১০০ পণ্য ও সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমিয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড় আরও উঁচু হচ্ছে বলেও জানান এই অর্থনীতিবিদ। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকার আমদানি বিধিনিষেধ শিথিল করাসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে ব্যাংকিং খাত, কর ও প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের বিষয় রয়েছে।
গত ছয় মাসে দেশের জনগণ ও বেসরকারি খাতের দৃঢ়তায় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এইসব প্রচেষ্টার পরও, চলমান চ্যালেঞ্জগুলো অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিনিয়োগে ধীরগতি ও শিল্পখাতে স্থবিরতার কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ৮১ শতাংশে নেমে এসেছে যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।’ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি, দুর্বল ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিকে আরও চাপে রেখেছে। তার মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োেগ (এফডিআই) কমে আসা ও অনাদায়ী ঋণ বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক খাতে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগে স্থবিরতাসহ বেশ কিছু সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। সেখান থেকে বের হতে পারেনি। আমরা আশা করেছিলাম অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। কয়েকটি সুচকে -রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ পতন ঠেকানো ছাড়া তেমন কোন অগ্রগতি আমরা তা দেখিনি।’ তিনি যোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কারণে অর্থনীতিতে আস্থার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আস্থার এই সংকট বিনিয়োগকারী ও ভোক্তা উভয়েরই বলে জানান তিনি।


