সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে আন্দোলনে থাকা সংগঠন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা স্বীকার না করে উল্টো এসব ঘটনাকে ‘বানোয়াট ও গল্প’ বলে অতীতের মত বর্তমান সরকারও অস্বীকার করছে। শেখ হাসিনা সরকারও সংখ্যালঘু নির্যাতন ‘অস্বীকার করেছে’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “ যেমনটা করা হয়েছে ২০০১, ২০১২, ২০১৮ ও ২০২১ সালের রক্তাক্ত শারদে।” জোট নেতারা বলেন, “যদি সংখ্যালঘু নির্যাতনই না হয়, তাহলে ৮ দফা মেনে নিতে অসুবিধা কোথায়? সংখ্যালঘু কমিশন করে পেছনের ঘটনাগুলো তদন্ত করলে অসুবিধা কোথায়?”
সরকারের উদ্দেশ্যে বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরাও পারস্পরিক সহাবস্থান চাই। সনাতনীরা মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনেও প্রাণ দিয়েছে। আমাদের ত্যাগ নিয়ে আর বৈষম্য করবেন না।” শুধু রাজনৈতিক দোষারোপের ‘সংস্কৃতিতে’ না থেকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে সনাতনী জোট বলছে, “তার আগে সংগঠনের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তি দিন। কথা দিচ্ছি, আপনারা ৮ দফা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিলে আমরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নেতৃত্বে আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে দেব। “যারাই আমাদের ৮ দফার পক্ষে কাজ করবে আমরা তাদেরই সমর্থন দেব।”
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় ‘অনুতাপের’ কথাও বলা হয় বিবৃতিতে। “বিষয়টি নিয়ে আমরাও অনুতপ্ত। কারণ সনাতনীরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ এর হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের সর্বোচ্চ বিচার হউক সেটা আমরা চাই। এবং যেন প্রকৃত অপরাধী ছাড়া কোনো নিরীহ ব্যক্তির উপর কোনো অন্যায় অত্যাচার না হউক সেই বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।”
গত ৩ ডিসেম্বর চিন্ময়ের জামিন শুনানিতে কোনো আইনজীবী কেন হাজির হতে পারেনি, সে বিষয়টিও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, “অব্যাহত হামলা ও মামলা এবং গণপিটুনির ভয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে পারেনি। যার কারণে জামিন শুনানি এক মাস পিছিয়ে ২ জানুয়ারি ২০২৫ ধার্য করেছেন আদালত।” আদালতে আইনজীবী দাঁড়াতে না দেওয়া বা দাঁড়াতে না পারার মত পরিবেশ সৃষ্টি করাকে ‘সম্পূর্ণ মানবাধিকার পরিপন্থী’ উল্লেখ করে দেশে বিদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছে সনাতনী জাগরণ জোট।
গত ৩ ডিম্বের জামিন শুনানির দিন আদালত চতুরে আইনজীবীদের বিক্ষোভ সমাবেশে চিন্ময়ের পক্ষে শুনানি করলে আদালতপাড়ায় গণপিটুনি দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে গত ৫ অগাস্ট সরকার পতনের দিন থেকে যত হামলা হয়েছে তার তথ্য এবং ‘ধর্ম অবমাননার’ নামে যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের তথ্য ও মামলার কপি পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে তারা।


