বর্তমান যুগে প্রযুক্তি জীবনযাত্রাকে সহজ ও সুবিধাজনক করেছে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে আমরা দ্রুত যোগাযোগ করতে পারি, তথ্য সংগ্রহ করতে পারি এবং বিনোদন উপভোগ করতে পারি। কিন্তু এসব ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। দিনের পর দিন স্ক্রীনের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যর সৃষ্টি করে। চলুন, দেখি অতিরিক্ত স্ক্রীন টাইমের কারণে কী কী শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে:
চোখের সমস্যা
মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রীনের দিকে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের পেশী ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে দেখা দেয় ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’ বা চোখের ক্লান্তি। এর ফলে চোখে জ্বালা, ঝাপসা দেখার সমস্যা, মাথা ব্যথা এবং কনজাংটিভাইটিস (চোখের প্রদাহ) হতে পারে। স্ক্রীনের আলোও চোখের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে রাতে অন্ধকারে স্ক্রীন ব্যবহার করার সময়।
মেরুদণ্ডের সমস্যা
কম্পিউটার স্ক্রীন ব্যবহার করার সময় অনেকেই ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকেন, যা মেরুদণ্ডের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে পিঠ ও ঘাড়ের পেশী শক্ত হয়ে যায়। ফলে ব্যথা, সোজা হয়ে না দাঁড়ানো এবং মেরুদণ্ডের বক্রতা সৃষ্টি হতে পারে।
হাত ও কব্জির সমস্যা
ল্যাপটপ, স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহার করার সময় হাত ও কব্জির উপর অনেক চাপ পড়ে। দীর্ঘ সময় টাইপ বা স্ক্রীন স্পর্শের কারণে ‘রিস্ট স্ট্রেন’ বা কব্জির ব্যথা হতে পারে। এছাড়া ‘কার্পাল টানেল সিনড্রোম’ নামক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা হাতের অসাড়তা বা ব্যথা সৃষ্টি করে।
ঘুমের সমস্যা
স্ক্রীনের নীল আলো আমাদের মস্তিষ্কে এমন সংকেত পাঠায় যা ঘুমের জন্য উপকারী হরমোনের উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে। রাতে ঘুমানোর আগে স্ক্রীন ব্যবহার করলে ঘুমের মান কমে যেতে পারে এবং অশান্তির অনুভূতি হতে পারে। এটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে ইনসমনিয়ার মতো ব্যাধিও সৃষ্টি হতে পারে।
স্থূলতার প্রবণতা
স্ক্রীনের সামনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে সাধারণত শারীরিক কার্যকলাপ কমে যায়। এতে ক্যালোরি খরচ কমে যায় এবং স্থূলতা বা ওজন বাড়তে পারে। দীর্ঘসময় বসে থাকার ফলে শরীরের ত্বকও সঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে পারে না, যার ফলে স্বাস্থ্যগত সমস্যা সৃষ্টি করে। তবে এর থেকে বাঁচার উপায়ও রয়েছে। প্রতিদিন ডিভাইস ব্যবহারের সময়সীমা সীমিত করা, নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া, শারীরিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি করা, আশপাশের সকলকে ও নিজেকে সময় দেওয়া এসব শারীরিক সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এক্ষেত্রে সচেতনতা ও নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে এই রুটিন বজায় রাখা সম্ভব।


