কোরবানির অর্থনীতি –

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকায় ৩১ মে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলছে, এ বছর ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৫৪৪টি খামারে ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে দেশে এবার ৬৭ হাজার কোটি টাকার কোরবানির পশু বিক্রি হবে।

উৎসবকে সামনে রেখে এভাবেই টাকার লেনদেন বাড়ে, তাতে চাঙ্গা হয় দেশের অর্থনীতি। গরুর হাট থেকে রেমিটেন্স, মোবাইল ব্যাংকিং থেকে চামড়ার বাজার—ঈদুল আজহা ধর্মীয় উৎসব তো বটেই, সেই সঙ্গে লাখ কোটি টাকার এক বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞও।

বাণিজ্যিক খামারগুলোতে যেমন গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া ইত্যাদি পশু লালন পালন হয়, তেমনি পরিবারকেন্দ্রিক খামারেও হয়। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কর্মব্যস্ত খামারি কিংবা কৃষকরা। গোখাদ্যকে কেন্দ্র করে হয় শত শত কোটি টাকার ব্যবসা।

পশু পরিবহনে হয় বড় বাণিজ্য। হাট ইজারা নেওয়ায় খরচ হয় কোটি কোটি টাকা। পছন্দের পশু কিনে দিতে হয় নির্ধারিত হাসিল বা কর। সেখানেও আদায় হয় শত শত কোটি টাকা।

পছন্দের পশু বাসায় আনার পর অন্তত এক দুই দিনের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। শহরাঞ্চলে এই খাবার উচ্চ মূল্যেই কিনতে হয়। এবার পশু জবাই করে মাংস প্রস্তুত করতে প্রয়োজন কসাইয়ের। তার পারিশ্রমিকতো আছেই।

ঈদুল আজহায় বিভিন্ন পশুর ৯০ থেকে এক কোটি চামড়া সংগ্রহ করা হয়, যা সারা বছরের চাহিদার ৬০ থেকে ৭০ ভাগ। চামড়া থেকে বছরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি বা ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা আয় হয়। প্রাথমিকভাবে চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন পড়ে লবণের। এসময় চাহিদা বেড়ে লবণের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়, বাণিজ্য হয় কয়েক শত কোটি টাকা।

ঈদুল আজহাতে চাহিদা বাড়ে মসলা পণ্যের। বাণিজ্যের পরিমাণ কম বেশি ৩০০ কোটি টাকা বলে মোহাম্মদ আবদুল মজিদের বই ‘উৎসবের অর্থনীতি’ থেকে জানা যায়।

তাহলে দেখা যায়, শুধু কোরবানির পশুকেন্দ্রিক যে অর্থনীতি তা লাখ কোটি টাকার বেশি। অন্যান্য কিছু মিলিয়ে এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি।

এর মধ্যে আছে উৎসবকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। আবার ঈদের ছুটির পর কর্মস্থলে ফিরে আসা। এ বাবদও প্রচুর অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে।

এছাড়া উৎসব কেন্দ্রিক অর্থনীতিকে বড় চাঞ্চল্য তৈরি করেন প্রবাসীরা। কোরবানি পশু কেনাকে কেন্দ্র করে ঈদুল আজহায় কিংবা অন্যান্য কেনাকাটায় ঈদুল ফিতরে পরিবারের জন্য অন্য মাসের তুলনায় বেশি অর্থ পাঠিয়ে থাকেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উৎসবে বহু পণ্য ও সেবায় মূল্যছাড় দেয়া হয়। এতে ভোক্তারা উৎসাহী হয়ে তাদের লেনদেনের পরিমাণ বাড়ায়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই উৎসবকে কেন্দ্র করে সব কিছুর দাম বা খরচ বেড়ে যায়। বাড়তি এই খরচ নির্দিষ্ট মানুষের আয়ে প্রভাব ফেলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন