সরকারের বন বিভাগ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংস্থা ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের করা এক বৃক্ষ জরিপ থেকে জানা গেছে, ঢাকার ৩০৬ বর্গকিলোমিটারে এখনো টিকে আছে ছোট-বড় প্রায় ১৩ লাখ গাছ। ঢাকায় প্রথমবারের মতো এই বৃক্ষ জরিপ হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘আরবান ট্রি ইনভেনটরি অব ঢাকা সিটি’।
ঢাকা দক্ষিণে গাছ-আচ্ছাদিত জায়গার পরিমাণ ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। ঢাকা উত্তরে তা সাড়ে ১০ শতাংশ। বৃক্ষ জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার টরন্টোয় প্রায় ২৭ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ৩৭ শতাংশ ও নিউইয়র্কে প্রায় ২১ শতাংশ এবং জাপানের শিকাগোয় ১৭ শতাংশের বেশি এলাকা গাছে আচ্ছাদিত।
জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপির (ইউনাইটেড ন্যাশনস এনভায়রনমেন্টাল প্রোগ্রাম) নির্দেশিকা অনুযায়ী, একটি শহরের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ সবুজ অঞ্চল থাকা উচিত।
বৃক্ষ জরিপ শুরু হয় ২০২২ সালে নভেম্বরে। উপাত্ত সংগ্রহ শেষ হয় ২০২৩ সালের ৮ এপ্রিল। এরপর উপাত্ত প্রক্রিয়াজাত ও বিশ্লেষণ করা হয় এবং গবেষণা প্রতিবেদন লেখা হয়। সম্প্রতি এটি বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণাটিতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা ইউএসএআইডি।
ঢাকায় সব মিলিয়ে ৩৩ গোত্রের ১১০ প্রজাতির গাছ পাওয়া গেছে। বৃক্ষ জরিপে ঢাকায় কোন গাছ বেশি, তা–ও উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ১৩ লাখ গাছের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে আম, মেহগনি ও নারকেলগাছ। সবচেয়ে বেশি বায়ু পরিষ্কারক গাছ হচ্ছে মেহগনি। এরপর রয়েছে কালো কড়ই, আম ও জামগাছ।
পরিবেশবিদেরা বলছেন, গাছ ও জলাভূমি কমে যাওয়ায় ঢাকায় গরম বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় এসেছে যেসব এলাকায় গাছ ও জলাভূমি বেশি, সেখানে গরম কম অনুভূত হয়। যেখানে গাছ ও জলাভূমি কম, সেখানে গরম বেশি লাগে। আবার ঢাকার আশপাশের জেলার চেয়ে ঢাকায় গড় তাপমাত্রা বেশি থাকে।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা শহরে যত জনসংখ্যা ধারণ করতে পারে, তার তিন গুণ মানুষ এখানে বসবাস করেন। জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সবুজ এলাকা বাড়ানো উচিত ছিল, অথচ ঘটছে উল্টোটা।
তিনি বলেন, ‘আগে ঢাকার সবুজের তিনটি লেয়ার (স্তর) ছিল। ঘাস, লতাগুল্ম ও গাছ। ঘাস আর লতাগুল্ম হারিয়ে এখন টিকে আছে কিছু গাছ। তা-ও সৌন্দর্যবর্ধনের নামে কাটা পড়ছে। ঘাস আর লতাগুল্ম ভূপৃষ্ঠের তাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঢাকায় সবুজের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না নিলে তীব্র তাপপ্রবাহে নগরবাসীর সংকট আরও বাড়বে।’


