ইউক্রেনের ড্রোন হামলার জবাবে রাশিয়াকে ব্যবস্থা নিতেই হবে–এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ফোনালাপের পরও যুদ্ধ থামার কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, এই আলোচনা থেকে ‘তাৎক্ষণিক শান্তি’ আসবে না।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে রাশিয়ার বিমানঘাঁটিতে ইউক্রেনের হামলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তিনি পুতিনকে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাননি বলেও নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প। বরং আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কথা হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এই বিষয়ে গড়িমসি করছে এবং রাশিয়া এবিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
ফোনালাপে পুতিন বলেন — যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে ইউক্রেন শুধু সময় নিতে চায়, যাতে তারা পশ্চিমা অস্ত্রের মজুদ বাড়াতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘ওদের পুরস্কার দেওয়ার কিছু নেই।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউক্রেনের সন্ত্রাসী হামলায় রাশিয়ার রেললাইন ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলেনস্কি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রস্তাবিত ‘পুতিন-জেলেনস্কি-ট্রাম্প ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে’ অংশ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
পুতিন অবশ্য এই প্রস্তাবে ইতিবাচক নন। বরং তিনি ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এ অবস্থায় আলোচনার পরিবেশ নেই।’
একইদিন ব্রাসেলসে ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা বিষয়ে ৫২ দেশের একটি বৈঠকে ইউরোপীয় দেশগুলো নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে যৌথ পরিকল্পনা এবং সরবরাহ জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এ বৈঠকে।
এদিকে, বিমানঘাঁটিতে ইউক্রেইনের সাম্প্রতিক হামলায় পশ্চিমাদের সম্পৃক্ততা আছে, রাশিয়া এমনটা মনে করে কিনা–এ প্রশ্নের জবাবে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মঙ্গলবার বলেছেন, পশ্চিমারা অস্ত্র সরবরাহ করেছে, লক্ষ্যবস্তুর কো-অর্ডিনেট দিয়েছে, হামলার নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং সক্রিয়ভাবে ইউক্রেইনকে উসকে দিয়েছে।
“কিইভের শাসকদের হাতে বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে এ ধরনের হামলায় যে পশ্চিমারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উভয়ভাবেই জড়িত, এসবেই তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে,” বলেছেন তিনি।


