বাংলাদেশ সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার ২০২৮ সালের মধ্যেই ৩,৪০০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিদ্যমান জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ২২,২১৫ মেগাওয়াট, যার মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ১,১৮৩ মেগাওয়াট, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৪.৫ শতাংশ। মূলত সোলার, উইন্ড, বায়োমাস ও ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ এই নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে সোলার শক্তির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি গাইবান্ধায় চালু হয়েছে দেশের বৃহত্তম সোলার প্রকল্প, ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিস্তা সোলার পার্ক। অন্যদিকে কক্সবাজারে ৬০ মেগাওয়াটের প্রথম বাণিজ্যিক উইন্ড পাওয়ার প্ল্যান্টও চালু হয়েছে।
সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (SREDA) এবং বিদ্যুৎ বিভাগের যৌথ তত্ত্বাবধানে এই রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুৎ গ্রিডে মাত্র ৬০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তি সংযুক্ত রয়েছে। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাড়ালে ৬,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সংযোগ সম্ভব বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
সরকার ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের মধ্যে ৩,৭০০ মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে আরও বড় অংশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোলার হোম সিস্টেম প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যন্ত ও অফ-গ্রিড এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই পরিকল্পনা সফল হলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ নীতি বাস্তবায়ন, আর্থিক বিনিয়োগ ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন। বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা এখন আর শুধু উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলছি না, আমরা চাই পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই শক্তিতে যাওয়া। জনগণেরও এই খাতে সচেতন অংশগ্রহণ দরকার।”
উল্লেখ্য বাংলাদেশ সরকারের নবায়নযোগ্য শক্তির রূপকল্প শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশকে জ্বালানি নির্ভরতা হ্রাসে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


