ঈদুল আজহা আসন্ন দেশের বিভিন্ন হাটে গরু বিক্রির প্রস্তুতি থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বেচাবিক্রি জমে উঠেনি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরুর বাজারে ক্রেতার সংকট দেখা দিয়েছে। গরুর দাম বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবার কোরবানি ঈদে গরু কেনা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের তিনটি বিভাগে—রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা মোট ৭০ শতাংশ পশুর চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তবে বাজারে পশুর বিক্রি কম হওয়ায় খামারিরা লোকসান নিয়ে উদ্বিগ্ন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতি গরিব মানুষের সংখ্যা বাড়বে এবং দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাবে। অর্থনীতিবিদরা মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং কর্মসংস্থানের সংকটকে মানুষের আয় কম হওয়ার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন।
ময়মনসিংহের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদ উদ্দিন বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখে এবার কোরবানি করা সম্ভব হচ্ছে না।” রংপুরের বেসরকারি চাকরিজীবী নজরুল ইসলাম জানান, “বাজেট কম হওয়ায় এবার গরু ভাগে কোরবানি করাও কঠিন।”
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান আশা প্রকাশ করেছেন, ঈদের আগে বাজার সহনশীল হবে। তিনি বলেন, “পশুর চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রয়েছে এবং কোনো নেতিবাচক সমস্যা হবে না।” তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, এবার কোনো বিদেশি গরু বর্ডার দিয়ে আসবে না।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান মনে করেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবারের কোরবানির পশুর চাহিদা কম থাকবে।তিনি বলেন, “অনেকে গরু ভাগে বা ছাগল দিয়ে কোরবানি করবেন, কারণ মানুষের আর্থিক ক্ষমতা কমে গেছে।”
বাজারে গরুর দাম বাড়লেও ক্রেতার সংকট এবং মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবারের কোরবানি ঈদে পশুর বেচাবিক্রি ধীরগতিতে রয়েছে।রাজনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেকেই কোরবানি থেকে বিরত থাকছেন। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আশা প্রকাশ করেছে, ঈদের আগে বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হবে। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প খুঁজে বের করাই এবারের কোরবানির অন্যতম চ্যালেঞ্জ।


