বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন, কূটনৈতিক দূরত্ব ও ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থিতিশীল রয়েছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি কমেনি, বরং সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা বেড়েছে।
চলতি ২০২৪-২৫ ভারতীয় অর্থবছরেও (এপ্রিল-মার্চ) প্রতিবেশী দেশটি থেকে প্রায় ১১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৫৩% বেশি। এ আমদানির বিপরীতে রফতানির পরিমাণ কম। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাণিজ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে এ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।
ভারতের বাণিজ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতের পণ্য আমদানি বা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রফতানি ৮.৭% শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২০০ কোটি বা ২ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি।
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য গত পাঁচ দশকে ক্রমেই বড় হয়েছে। পণ্য আমদানিতে চীনের পরই বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস দেশ ভারত। ফলে দেশটিরও পণ্য রফতানির শীর্ষ গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।
ভারতের প্রধান রফতানি পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে তুলা, খাদ্যশস্য, খনিজ ও জ্বালানি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রধানত তৈরি পোশাক রফতানি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক টানাপড়েন থাকলেও দুই দেশের অর্থনীতি এতটাই একে অপরের উপর নির্ভরশীল যে এ সম্পর্ক সহজে ভাঙা সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব জনগোষ্ঠী যে একটা আন্তঃনির্ভরশীল বিশ্বে বাস করে, তারই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে দুই দেশের বাণিজ্যে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে সম্পর্কের টানাপড়েন তৈরি হলেও কিন্তু ওই দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক খুব একটা প্রভাবিত হয়নি। একই বিষয় ভারত ও চীনের ক্ষেত্রেও। আবার চীন ও জাপানের মধ্যেও এমন চিত্র।
রাজনীতির বাস্তবতা, কূটনীতির বাস্তবতা ও অর্থনীতির বাস্তবতার মধ্যে মূলত বড় ধরনের ফারাক। গত তিন বা চার দশকের আন্তর্জাতিক সম্পর্কে এটা বেশ ভালোভাবেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


