পুলিশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দৈনিক সমকাল জানিয়েছে, এ বছরের শুরু থেকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। পুলিশ সদরদপ্তরের হিসাবে, স্বাভাবিক সময়ে দেশে দৈনিক গড় গ্রেপ্তার এক হাজারের কাছাকাছি। মাসে ৩০ হাজারের মতো। সারা দেশে পুলিশের থানা রয়েছে ৬৩৯টি।
পুলিশ সদরদপ্তরের প্রতিদিনের গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে প্রতিদিনের গড় গ্রেপ্তার ছিল ৯৭৪ জন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসের দৈনিক গড় গ্রেপ্তার ১ হাজার ৪২৪ জন। প্রথম ৫ মাসের তুলনায় পরের ৫ মাসে গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
এই প্রতিবেদনে সাধারণ মামলা এবং জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলার আসামিদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। এখানে সার্বিক গ্রেপ্তারের হিসাব স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে কত মানুষ জামিন পেয়েছে– একক কোনো সূত্র থেকে সে তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে কারাগার-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রতিদিন কারাগারে নতুন করে ঢোকা বন্দি এবং জামিনে মুক্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা সাধারণত কাছাকাছি থাকে। সারাদেশের ৬৯ কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছে ৭৩ হাজার ৬ জন।
পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অপারেশন) শাহজাদা মো. আসাদুজ্জামান সমকালকে বলেন, পুলিশ এখন পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই অভিযান ও গ্রেপ্তারে গতি এসেছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কোথায় কী ধরনের ‘অ্যাক্টিভিটির’ সঙ্গে যুক্ত, তার ওপর বাড়তি নজর থাকছে। ঝটিকা মিছিল বের করার পর তারা ফেসবুকে পোস্ট করে। এর সূত্র ধরে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে যারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধে যুক্ত, তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরাতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বড় বিষয় নয়। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিশৃঙ্খলা তৈরিসহ বিভিন্ন অপরাধে যারা যুক্ত, তারা ধরা পড়ছে কিনা সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও দেখছি, মব সৃষ্টি করে কারও কারও কাছ থেকে বৈধতা পাওয়া যাচ্ছে। যদি অভিযান বা গ্রেপ্তার শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে হয়, তাহলে সামগ্রিকভাবে তা পরিস্থিতি উন্নতিতে কোনো কাজে আসে না।’


