বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮-৯ মাসের প্রাপ্ত হিসাবের ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধির এ সাময়িক হিসাব করা হয়েছে বলে বিবিএসের কর্মকর্তারা জানান। তবে এ অর্থবছর বাড়বে মাথাপিছু আয় ও জাতীয় সম্পদ। কিন্তু কমবে বিনিয়োগ এবং দেশজ সঞ্চয়ের হার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মঙ্গলবার সাময়িক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
কোডিডের বছর, অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরের পর জিডিপির প্রবৃদ্ধি আবার ৪ শতাংশের নিচে নামল। কোডিডের বছরে লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধ থাকায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয় ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। কোভিডের সময়ের বিশেষ পরিস্থিতি বাদ দিলে গত দুই দশকের মধ্যে এত কম প্রবৃদ্ধি আর কোনো বছরে হয়নি। এডিবি (ADB) বলেছে — এই মন্দার জন্য দায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে কারখানায় ব্যাঘাত সৃষ্টি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি—যেগুলো সকলই চাহিদা হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে।
বিবিএস বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।বিবিএসের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জিডিপিতে কৃষি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের চেয়ে কিছুটা কমেছে। কৃষি খাতে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ।
এবার প্রবৃদ্ধি কমবে, এমন পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দিয়েছে। চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস হলো ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আরেক দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছিল, বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে। বিবিএস’র সাময়িক হিসাবে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়াবে ৫৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। মার্কিন ডলারে হিসাব করলে ৪৬২ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২১১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১০২ কোটি টাকা। মার্কিন ডলারের হিসাবে চলতি অর্থবছর হয়েছে ২ হাজার ৮২০ ডলার, যা গত অর্থবছর ছিল ২ হাজার ৭৩৮ ডলার। বিবিএস’র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি অর্থবছর জিডিপির তুলনায় দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত অর্থবছর ছিল ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ।


