শিশুদের শারীরিক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনে পরিবেশগত জীবাণুর ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।শিশুদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা বিকাশে ‘গাট মাইক্রোবায়োম’ বা অন্ত্রের জীবাণু মুখ্য ভূমিকা পালন করে। গাট মাইক্রোবায়োম শতকরা ভাগে কোটি কোটি ক্ষুদ্র জীবাণুর সমষ্টি, যা হজম প্রক্রিয়া সহজতর করার পাশাপাশি শরীরের ভিটামিন উৎপাদন ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঠিক নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর প্রথম বছরটি গাট মাইক্রোবায়োম গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, যেখানে শিশুর জন্ম পদ্ধতি ও প্রাথমিক খাদ্যাভ্যাস যেমন ভূমিকা রাখে, তেমনি পরিবেশগত জীবাণুর সংস্পর্শও সমানভাবে জরুরি।
ন্যাচার ও সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত একাধিক গবেষণা প্রমাণ করেছে, নরমাল ডেলিভারি শিশুর মায়ের দেহ থেকে উপকারী জীবাণু সঞ্চারিত হয়, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অধিকতর সক্রিয় করে। মায়ের বুকের দুধ শিশুকে অ্যান্টিবডি ও জীবাণু সরবরাহ করে গাট মাইক্রোবায়োম গঠনে সহায়ক।
এরপর শিশুর সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশে (যেমন, মাটি, গাছপালা, পোষা প্রাণী) সংস্পর্শ এই জীবাণুগুলোর বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে এবং দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রশিক্ষিত হয়।
‘ওল্ড ফ্রেন্ডস হাইপোথিসিস’ তত্ত্ব বলে, শৈশবে উপকারী জীবাণুর সাথে সংস্পর্শ থাকলে ইমিউন সিস্টেমের অতি সজাগতা বা অ্যালার্জি কম হয়। এর বিপরীতে ‘হাইজিন হাইপোথিসিস’ নির্দেশ করে, অতিরিক্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে শিশুর শরীর অ্যালার্জি প্রবণ হয়ে ওঠে।
ফিনল্যান্ডের এক আধুনিক গবেষণায় বন থেকে আনা মাটি ও ঘাসে খেলানো শিশুর ত্বকে দ্রুত উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি এবং রক্তের রোগ প্রতিরোধ কোষের সক্রিয়তা বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে সুইডেনে কৃষিভিত্তিক পরিবেশে বড় হওয়া শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জির হার কম এবং গাট মাইক্রোবায়োমে জীবাণুর বৈচিত্র্য বেশি পাওয়া যায়।
তবে এই গবেষণাগুলো থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাও উঠে আসে, যে শহুরে দূষিত মাটির সঙ্গে সংস্পর্শে আসা ক্ষতিকর রাসায়নিক বা সিসার কারণে শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। তাই শিশুর গাট মাইক্রোবায়োম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিরাপদ, জীবাণু বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
শিশুর শৈশবে উপকারী জীবাণুর পর্যাপ্ত সংস্পর্শ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য নীতি নির্ধারণে ও পিতামাতার সচেতনতায় পরিবেশগত জীবাণুর ভূমিকা ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


