ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি ও প্রতিরোধে করণীয়

বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগসমূহের মধ্যে ম্যালেরিয়া অন্যতম একটি প্রাণঘাতী রোগ। বিশেষ করে দেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলো, যেমন—রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এ রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলাটি ম্যালেরিয়ার ঝুঁকির দিক থেকে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যান্য সমতল জেলাগুলোর তুলনায় পার্বত্য এলাকায় এই রোগের সংক্রমণ হার অনেক বেশি। মূলত বর্ষা মৌসুমে মশার বিস্তার বৃদ্ধি পাওয়ায় ম্যালেরিয়া সহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রকোপও বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে আক্রান্ত হওয়ার আগেই সতর্কতা অবলম্বন করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একবার কেউ আক্রান্ত হলে, চিকিৎসা নিতে দেরি হলে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুও হতে পারে। ফলে রোগটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে করণীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচে উল্লেখ করা হলো:

*রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। এটি হলো সবচেয়ে প্রাথমিক ও কার্যকর পদ্ধতি।
*মশার কামড় থেকে বাঁচতে রিপেলেন্ট জাতীয় পণ্য যেমন মশা তাড়ানোর কয়েল, স্প্রে বা ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসব উপাদান ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন জরুরি, কারণ অতিরিক্ত ব্যবহারে শ্বাসকষ্ট বা এলার্জি হতে পারে।
*সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত সতর্ক থাকা দরকার, কারণ এ সময় ম্যালেরিয়াবাহী স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে।
*বাসা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। জমে থাকা পানি মশার বংশবৃদ্ধির প্রধান স্থান, তাই এসকল স্থানে ওষুধ ছিটানো বা পানি অপসারণ করা দরকার।

ম্যালেরিয়ার উপসর্গ ও চিকিৎসা:
ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে সাধারণত কাঁপুনি দিয়ে উচ্চমাত্রার জ্বর আসে, যা ১০৫ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। অনেক সময় জ্বর নির্দিষ্ট বিরতিতে আসে—যেমন একদিন পরপর জ্বর হয় এবং ৩-৪ ঘণ্টা স্থায়ী হয়, এরপর ঘাম দিয়ে জ্বর কমে যায়। এই ধরণের জ্বরকে চক্রাকারে আসা জ্বর বলা হয়, যা ম্যালেরিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও দুর্বলতা, মাথাব্যথা, বমি ভাব, কখনও কখনও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেকোনো ব্যক্তি এসব উপসর্গে ভুগলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। চিকিৎসায় দেরি হলে রোগীর অবস্থা মারাত্মক হতে পারে।

ম্যালেরিয়া এখনও বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে জনস্বাস্থ্যের একটি বড় হুমকি। সঠিক সচেতনতা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমেই এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও সতর্কতার গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এবং সচেতন হলে ম্যালেরিয়ার মত প্রাণঘাতী রোগও প্রতিরোধ করা সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন