সাম্প্রতিক একটি গবেষণা প্রমাণ করেছে স্বাস্থ্যসেবার উপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব। এই গবেষণায় ‘জিরো সুইসাইড মডেল’ বা শূন্য আত্মহত্যা মডেল প্রয়োগের মাধ্যমে আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যার চেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই মডেলটি প্রথম ২০০১ সালে ডেট্রয়েটভিত্তিক হেনরি ফোর্ড হেলথ সংস্থায় চালু হয় এবং ২০০৯ সালে সেখানে এক বছরে কোনো রোগীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি, যা মডেলের সফলতার প্রমাণ।
জিরো সুইসাইড মডেল মূলত মানসিক সংকটের মধ্যে থাকা রোগীদের আগ্নেয়াস্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জিনিস থেকে দূরে রাখা এবং চিকিৎসা ও মনোসংযোগমূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দেয়। এই মডেলটি রোগীদের পরীক্ষার পর নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি, মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে আত্মহত্যার ঝুঁকি কমায়।
২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কাইজার পার্মানেন্টে নামে আরেকটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এই মডেল চারটি ভিন্ন অঞ্চলে প্রয়োগ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, তিনটি অঞ্চলে আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যার চেষ্টার হার কমেছে এবং চতুর্থ অঞ্চলে ইতিমধ্যে কম ছিল, তা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। এই গবেষণার প্রধান লেখক ব্রায়ান আহমেদানি জানান, মডেলটি চালু করার ফলে বছরে প্রায় ১৬৫ থেকে ১৭০টি আত্মহত্যার চেষ্টা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন ক্যায়েস বলেন, আত্মহত্যা করার ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় সবাই আগের বছর চিকিৎসকের কাছে যান, কিন্তু চিকিৎসকরা যদি আত্মহত্যার চিন্তা সম্পর্কে প্রশ্ন না করেন, তাহলে অনেক সময় বিষয়টি অজানা থাকে। তাই এখন অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের চেকআপের সময় আত্মহত্যার চিন্তা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হচ্ছে, যা আগের সময়ে ছিল না।
অন্যদিকে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, তাদের একাকীত্ব দূর করা এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করার পরামর্শ দেন। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় জরুরি যোগাযোগ নম্বর, মানসিক চাপ মোকাবিলার কৌশল এবং সহায়তা নেওয়ার সময় নির্ধারণ থাকে। এছাড়া আত্মহত্যার সরঞ্জাম হাতের কাছে সহজলভ্য না রাখা এবং সামাজিক ও পারিবারিক সমর্থন নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের মানসিক স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান মাইক হোগান বলেন, এই গবেষণা প্রমাণ করে যে স্বাস্থ্যব্যবস্থার আওতায় থাকা মানুষের আত্মহত্যা কমানো সম্ভব এবং এটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে।
সার্বিকভাবে, ‘জিরো সুইসাইড মডেল’ প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আত্মহত্যা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, যা মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবার মাধ্যমে আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই মডেল বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যা প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


