সিএনএন জানিয়েছে, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের সম্পদ বেড়েছে ৩৬৫ বিলিয়ন ডলার—অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। অক্সফামের নতুন এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এর মধ্যে শুধু ইলন মাস্কের একার সম্পদই বেড়েছে ১৮৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি—যা পুরো প্রবৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি। এর আগে এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইলন মাস্ক হতে পারেন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার।
এছাড়া মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এবং ওয়ালমার্ট উত্তরাধিকারী রব ওয়ালটনের সম্পদ বেড়েছে ৩৮.৭ বিলিয়ন ডলার করে। ওয়ারেন বাফেটের সম্পদ বেড়েছে ৩৪.৮ বিলিয়ন ডলার এবং জিম ওয়ালটনের ৩৬.৫ বিলিয়ন ডলার। তবে গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিনসহ কয়েকজন ধনকুবেরের সম্পদ কমেছে।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালে একজন গড় মার্কিন কর্মীর বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ৫০ হাজার ডলারের কিছু বেশি। অক্সফামের হিসাব অনুযায়ী, এমন ১০ জন কর্মীর ওই পরিমাণ আয় করতে সময় লাগবে প্রায় ৭ লাখ ২৬ হাজার বছর।
পরিসংখ্যানটি যুক্তরাষ্ট্রে ধনসম্পদের অসম বণ্টনকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এমন এক সময় পরিসংখ্যানটি প্রকাশিত হলো, যখন রিপাবলিকান পার্টি একটি বিল পাশের উদ্যোগ নিচ্ছে—যা বিশেষজ্ঞদের মতে ধনীদের আরও ধনী করবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার কাটছাঁট করবে।
আসন্ন বিলের বিরোধিতায় প্রগতিশীলরা ধনকুবেরদের সম্পদের ওপর কর আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। অক্সফাম জানায়, ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের ওপর মাত্র ৩ শতাংশ কর বসালেই শুধু এই শীর্ষ ১০ জন ধনীর কাছ থেকেই আদায় করা যাবে ৫০ বিলিয়ন ডলার—যা এক বছরে ২ কোটি ২৫ লাখ মার্কিনীকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
পেন ওয়ার্টন বাজেট মডেলের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আইনটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জিডিপি আগামী ১০ বছরে ০.৫ শতাংশ এবং ৩০ বছরে ১.৭ শতাংশ বাড়বে।
তবে এই আইন অনুযায়ী যে অর্থনৈতিক সুবিধা আসবে, তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬৫ শতাংশ) পাবে সমাজের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনী। অপরদিকে, সমাজের নিচের ২০ শতাংশ পরিবার ২০২৬ সালে মাথাপিছু প্রায় ১ হাজার ৩৫ ডলার হারাবে—মেডিকেইড, ফুড স্ট্যাম্পসহ অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মসূচির বাজেটে কাটছাঁট করার কারণে।
ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, “রিপাবলিকানদের বিল ধনীদের জন্য একটি ‘উপহার’। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা ধনকুবেরদের জন্য বিশাল করছাড় বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যেখানে এই ধনকুবেররা প্রতিদিনই ধনী হচ্ছেন। অথচ করছাড়ের প্রয়োজন ছিল সাধারণ মানুষের।”


