প্রচণ্ড রোদে ক্লান্ত শরীরে ঠান্ডা পানি যেন এক চুমুকেই প্রশান্তি দেয়। কিন্তু জানেন কি, এই আরামদায়ক পানি হয়তো আপনার শরীরেই ধীরে ধীরে ক্ষতির বীজ বুনে দিচ্ছে? গরমে রেখে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতলের পানি শরীরের জন্য হতে পারে মারাত্মক ক্ষতিকর।
‘সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট’ নামের একটি বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় উঠে এসেছে, অতিরিক্ত গরমে প্লাস্টিকের বোতল থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ ঘটে। এই পদার্থের অনেকটাই ন্যানোপ্লাস্টিক, যেগুলো পানির সঙ্গে মিশে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।ন্যানোপ্লাস্টিক অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকারের প্লাস্টিক কণা, কোষে ঢুকে শরীরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
গবেষণা বলছে, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির কণাগুলো আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ সময় বোতলের প্লাস্টিক গলতে শুরু করে এবং তাতে থাকা রাসায়নিক পদার্থ পানিতে মিশে যায়। সব ধরনের প্লাস্টিক থেকে এ ধরনের সমস্যা তৈরি হয় না বিশেষত BPA (Bisphenol-A) ফ্রি বোতল অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। কিন্তু আমাদের দেশে এই ধরনের বোতল সচরাচর ব্যবহৃত হয় না এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ প্লাস্টিক বোতল ব্যবহৃত হয়।
প্লাস্টিকের আরেকটি সমস্যা হলো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ। যখন আমরা একাধিকবার বোতলে মুখ লাগিয়ে পানি খাই, তখন মুখের কিছু ব্যাকটেরিয়া বোতলে থেকে যায়। এই ব্যাকটেরিয়া গরমে সহজেই বেড়ে ওঠে এবং দীর্ঘ সময় উত্তপ্ত অবস্থায় থাকলে পানি ব্যাকটেরিয়ায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই পানি শরীরে প্রবেশ করলে হজমের সমস্যা, ইনফেকশন এমনকি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
তবে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব:
*গাড়িতে রাখা পানির বোতল অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে তা না খাওয়াই ভালো।
*দীর্ঘদিন একই বোতল ব্যবহার না করে নিয়মিত পরিবর্তন করুন এবং পরিষ্কার রাখুন।
*এক বোতল একাধিক ব্যক্তি ব্যবহারের সময় মুখ না লাগিয়ে পানি পান করুন।
*সবচেয়ে ভালো হয় যদি প্লাস্টিকের বদলে কাচ, অ্যালুমিনিয়াম বা স্টেইনলেস স্টিলের বোতল ব্যবহার করা যায়।
ঠান্ডা পানি আপনার ক্লান্তি দূর করলেও যদি সেই পানি গরমে উত্তপ্ত বোতলে থাকে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই সচেতন হোন, সুরক্ষিত থাকুন।


