এক সময় ধারণা করা হতো কিছু শারীরিক অঙ্গের কোনো বিশেষ কার্যকারিতা নেই। নারীদেহের একটি অঙ্গ রিটে ওভারি (Rete Ovarii)—তেমনই একটি দীর্ঘদিন অবহেলিত অংশ, যাকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান আবারও প্রমাণ করলো প্রকৃতিতে কিছুই আসলে অপ্রয়োজনীয় নয়।
সম্প্রতি eLife নামক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এই অঙ্গটি ovary-র কার্যক্রম ও নারীর উর্বরতা রক্ষা করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণাটি মূলত ইঁদুরের উপর চালানো হলেও, এর ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
কী এই রিটে ওভারিই?
রিটে ওভারিই মূলত একটি সূক্ষ্ম নালী-নির্মিত নেটওয়ার্ক, যা ডিম্বাশয়ের পাশে অবস্থান করে। অতীতে এর কোনও কার্যকর ভূমিকা পাওয়া যায়নি বলেই এটিকে ‘বিকাশগত অবশিষ্টাংশ’ (vestigial organ) হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই অঙ্গটি ডিম্বাশয়ের আশেপাশে থাকা প্রোটিনসমৃদ্ধ তরল নিয়ন্ত্রণ করে এবং হরমোন যেমন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের সংকেত বুঝতে পারে।
গবেষকরা রিটে ওভারি-কে তিনটি স্বতন্ত্র অংশে বিভক্ত করতে পেরেছেন এবং দেখেছেন যে প্রতিটি অংশই ডিম্বাণু তৈরির জৈবিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন তৈরি করে। এমনকি এই অঙ্গটি “অ্যান্টেনা”-র মতো কাজ করে, অর্থাৎ শরীরের ভিতরে hormonal পরিবর্তনের সংকেত গ্রহণ করে এবং সেগুলো ডিম্বাশয়ে পাঠিয়ে তার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
এই নতুন তথ্যগুলো শুধু একটি অঙ্গকে পুনর্মূল্যায়ন করাই নয়, বরং নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার ক্ষেত্রেও নতুন দিক উন্মোচন করছে। যদি দেখা যায়, রিটে ওভারি অঙ্গটি সরিয়ে দিলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে, তবে তা আরও স্পষ্ট করে দেবে যে এই অবহেলিত অঙ্গটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
যেহেতু রিটে ওভারি কেবল ইঁদুরে নয়, অনেক স্তন্যপায়ী প্রাণীতে দেখা যায় এবং প্রজননের প্রাথমিক বিকাশ প্রক্রিয়াগুলো সাধারণত প্রায় একই রকম হয় তাই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মানব দেহেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


