১০ বছর পর জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বয়কটের আহ্বান ও সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে ভোটার অংশগ্রহণের হার ছিল কম। কিন্তু এবারের নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কর্তৃক কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর মাধ্যম হিসেবে এই নির্বাচনকে দেখছে স্থানীয়রা।
২০১৯ সালে মোদি সরকার জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্য মর্যাদা প্রত্যাহার করে একে দুটি কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে হয়, লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মির। একই সাথে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীর যে বিশেষ মর্যাদা পেত, তা বাতিল করা হয়। এর ফলে ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য কাশ্মির তার পতাকা, ক্রিমিনাল কোড, সংবিধান এবং ভূমি ও চাকরিতে পাওয়া সুরক্ষা হারিয়ে ফেলে। বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলো তো বটেই, এমনকি ন্যাশনাল কনফারেন্স ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির মত ভারতপন্থী মূলধারার রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর বিরোধিতা ও সমালোচনা করেছে।
জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভায় বর্তমানে মোট আসন ৯০টি, এর মধ্যে মুসলিমপ্রধান কাশ্মীরে ৪৭ ও হিন্দুপ্রধান জম্মুতে ৪৩টি। ২০১৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল, তাতে চারটি দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি হয়েছিল। সবচেয়ে বড় দল হয়েছিল পিডিপি, তারা পেয়েছিল ২৮টি আসন। বিজেপি ২৭টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় হয়। এনসি ১৫ ও কংগ্রেস ১২টি আসন পায়। এবারের নির্বাচনে এই উপত্যকার শাসন ক্ষমতা নিজেদের করে নিতে মরিয়া বিজেপি। তাদের লক্ষ্য হিন্দুপ্রধান জম্মুর প্রতিটি আসন জয়। অন্যদিকে মুসলিমপ্রধান কাশ্মীরের ভোটও টানতে চায় তারা। এদিকে, বিজেপিকে ঠেকাতে ন্যাশনাল কনফারেন্স বা এনসির সঙ্গে জোট বেঁধেছে রাহুল গান্ধীর দল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে কংগ্রেস।’
তবে জোটবদ্ধ না হয়ে আপাতত এককভাবে নির্বাচনে লড়ার পরিকল্পনা করছে মেহবুবা মুফতির দল পিডিপি। তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে আছে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে আনা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা। এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর রশিদ ইঞ্জিনিয়ারের আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টি (এআইপি) ও জামাতে ইসলামীর জোট। দুটি দলই বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে পরিচিত ছিল, তবে এবার তাদের জোট ৪৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে ২০১৭ সাল থেকে কারাগারে বন্দী শেখ রশিদ এবছরের শুরুতে লোকসভা নির্বাচনে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে হারিয়েছিলেন। জামাতে ইসলামীর ওপর থেকে সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগ আছে বিজেপি নির্বাচনী স্বার্থে এই জোটকে মদত দিচ্ছে।


