” … আমরা আনুপাতিক হারে সংসদে সদস্য (নিম্নকক্ষ) নির্বাচনের বিষয়ে একমত নই। উচ্চকক্ষে সদস্যরা কীভাবে নির্বাচিত হবেন, তা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা যেতে পারে।
… (জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল-এনসিসি গঠনের প্রস্তাব) এটা আমরা একদম না করে দিইনি। বলেছি, পরে সংসদে আলোচনা করে এটা করা যেতে পারে।
… গণতন্ত্র একটি সংস্কৃতি। এটা চর্চার বিষয়। চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়।…অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকারে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা একেকজন পণ্ডিত মানুষ। কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণ, জনগণকে সঙ্গে নেওয়া, এটা তো চর্চা করতে হবে। আজ যেটা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো রাজনীতিকদের দৃঢ় অঙ্গীকার থাকা। এখন তাঁদের ছাত্রদের দলকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যদি আলাদা করে নিয়মের বাইরে গিয়ে যদি কিছু করতে যান, মানুষ তা গ্রহণ করবে কি না, সে সিদ্ধান্তও নিতে হবে।
… বর্তমান বিশ্বে বিরাজনীতিকরণের একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে এক-এগারো (১১ জানুয়ারি ২০০৭) থেকে। ‘মাইনাস টু’ থিওরির কথা এসেছে। আমাদের অনেকে মনে করেন, এই চেষ্টা এখনো চলছে। এখন একটি মহল—যারা চায় না বিএনপি ক্ষমতায় আসুক, সরকার চালাক, নেতৃত্বের ভূমিকা নিক, তাদের মধ্যে এমন প্রবণতা আছে।
… সরকার ধোঁয়াটে অবস্থা তৈরি করে রেখেছে। ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত তো কোনো তারিখ ঘোষণা করা হলো না। পরিষ্কার করে বলতে হবে, আমরা এই এই কাজগুলো করে এভাবে নির্বাচন করতে চাই। তা না হলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
… এ সরকার নির্বাচিত নয়। এ কারণে অনেক কিছু হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ কোথাও বিচার পাচ্ছে না।…নির্বাচনে যত দেরি হবে, দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিদেশি বিনিয়োগ ততক্ষণ আসবে না, যতক্ষণ না এখানে নির্বাচিত সরকার আসে।
… অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে কমিশন গঠন করেছেন (নারী বিষয়ে), সেটা গঠনের সময় বাংলাদেশের যে সংস্কৃতি, এখানকার মানুষের চিন্তাভাবনা বিবেচনায় নেননি। সরকারের উচিত ছিল, ওই কমিশনে প্রগতিশীল কিছু ইসলামি স্কলারকে রাখা। তাহলে বিষয়গুলো এভাবে আসত না।
… আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট দল। তারা একটি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত। এ জন্য তাদের বিচার করতে হবে। আর যদি আদালত মনে করে, দল হিসেবেও তাদের বিচার করা দরকার, তাহলে তা করতে হবে।
… তরুণদের কোনো সুনির্দিষ্ট মতাদর্শে আনতে না পারার কারণে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটছে রাজপথে। কোনো কিছু হলেই ওরা মারামারি করছে। কলেজে কলেজে মারামারি হচ্ছে। দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছে। এগুলো বোধ হয় খুব ইতিবাচক কিছু হচ্ছে না।
তরুণদের যদি একটি বিপ্লবী দল থাকত, তাহলে হয়তো কিছু কাজ হতো। কিন্তু এখন তো বিপ্লবী দল বলে কিছু নেই। একটি দল আছে, যে দলটি এখনো রাজনৈতিক দল হিসেবে তৈরি হতে পারেনি।
… বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ঘটছে। বহু আগে থেকেই এ দেশে মারামারি গণতন্ত্রের অংশ। ট্রাম্প হেরে যাওয়ার পর ক্যাপিটল হিল আক্রান্ত হয়নি? এতে কি সেখানে গণতন্ত্র শেষ হয়ে গেছে?
… (দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ) তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এগুলো মুহূর্তের মধ্যে দূর করে ফেলতে পারবেন, এটা সম্ভব নয়। তবে দলের পক্ষ থেকে সমন্বিত চেষ্টা আছে। আমরা প্রায় তিন হাজার লোককে বহিষ্কার করেছি দল থেকে।
… একাত্তর হলো আমাদের ‘বটমলাইন’—আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন, আমাদের পরিচিতি, স্বাতন্ত্র্য। আর চব্বিশে ছাত্রদের যে আন্দোলন, তা স্বতঃস্ফূর্ত তাৎক্ষণিক একটি বিষয়। ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য যে নিরন্তর লড়াই করেছি আমরা, তার সঙ্গে ছাত্রদের আন্দোলন একটি স্ফুলিঙ্গের ভূমিকা রেখেছে। এটাকেও খাটো করে দেখার কোনো উপায় নেই।
… আমার ধারণা ছিল, ভারত রাষ্ট্র হিসেবে অনেক বড়, সুপারপাওয়ারের কাছাকাছি। সে অনুযায়ী তাদের কূটনৈতিক চর্চা বাস্তবসম্মত হবে, টেকসই হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সেই প্রত্যাশিত কূটনৈতিক চর্চা কখনোই করেনি।…একটি দলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে তাদের পুরোপুরি বিচ্ছেদ হয়ে গেছে।
সেই সম্পর্ক ভারতকে আবার তৈরি করতে হবে। এটা করতে হবে বিভিন্ন উপায়ে; যেমন তিস্তা ও অন্যান্য নদীর পানির হিস্যা দিতে হবে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার বন্ধ করতে হবে। আরেকটি বড় ইস্যু আছে, তা হচ্ছে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে ফেরত দিতে হবে।
… জনগণকে এটা মনে রাখতে হবে, জনপ্রিয়তামুখী রাজনীতি ভিন্ন বিষয়। বিএনপি একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল।…আমরা মনে করি, এখন ধৈর্য ধরে এ সরকারকে সফল হতে দিতে হবে। দেশকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।”


