দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে বাড়ছে না খাদ্যশস্যের উৎপাদন। কৃষিজমি হ্রাস, উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণের অভাব, কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং সে অনুপাতে কৃষক আয় করতে না পারাসহ নানা কারণ কৃষি উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। আর তাতে গত কয়েক বছর দেশের কৃষি খাত এক প্রকার অচলায়তনে রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে বড় ধাক্কা লাগতে পারে দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনায়।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে ধানের আবাদ হয়েছিল ১ কোটি ১৭ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে। আর সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবাদকৃত জমি ১ কোটি ১৪ লাখ হেক্টরে নেমে আসে। অর্থাৎ সর্বশেষ ৫ বছরে আবাদকৃত জমির পরিমাণ কমেছে প্রায় ২%।
এর বিপরীতে ৫ বছরে হেক্টরপ্রতি ফলন বেড়েছে কেবল ৪%। আর চাল উৎপাদন মাত্র ২% বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের দুই-তিন ফসলি জমি নানাভাবে অকৃষিকাজে ব্যবহার হচ্ছে। অথচ আইনে কৃষিজমিকে অন্য কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। কিন্তু সে আইনের কোনো বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।
আর কৃষকের ন্যায্যমূল্যও বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। সরকারকে উদ্যোগী হয়ে মূল্যসহায়তা দিতে হবে। কেননা সিন্ডিকেটের সঙ্গে কৃষক পেরে ওঠেন না। এতে পরের বছর একই পণ্য উৎপাদনের উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন তারা।
দেশে কৃষি উৎপাদনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিয়ে সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)। তাতে উঠে আসে, কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় ৭ বছরে দেশে কৃষির উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩%। একই সময়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দাম বেড়েছে ১.৩১%। ফলে কৃষি খাতে মুনাফা কমেছে।
এছাড়া ২০১১-২০ সালের মধ্যে মাটির অবক্ষয় এবং অযাচিত কৃষি পদ্ধতির কারণে জমির উর্বরতা ০.৪৪% কমেছে বলে বিআইডিএসের অন্য এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
এদিকে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের নিচে নেমে এসেছে চালের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে বার্ষিক জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার (আরএনআই) ছিল ১.৩৩%। অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, গত ৩ অর্থবছরে দেশে চালের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১%-এর নিচে।
চালের উৎপাদন প্রবৃদ্ধি এ মাত্রায় শ্লথ হয়ে আসার পেছনে বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ধানের কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়াকে। এ কারণে কৃষক অন্য ফসলে ঝুঁকছেন। অনেকে আবার কৃষিই ছেড়ে দিচ্ছেন।


