সুইজারল্যান্ডে চীন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা , বাণিজ্যযুদ্ধে সাময়িক বিরতির সম্ভাবনা

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হওয়া চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনার দিকে দৃষ্টি রাখছে বিশ্ববাজার। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলেও আলোচনার মাধ্যমে দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যকার চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে অন্তত একটি সাময়িক বিরতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উত্তেজনা প্রশমনে দু’দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা শনিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক গোপনীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান দুই শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাত চলছে, যার প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। ট্যারিফ, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার সুবিধা নিয়ে বিরোধের কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে।

বর্তমানে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্কহার দাঁড়িয়েছে ১৪৫%, যা কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বেড়ে ২৪৫% পর্যন্ত পৌঁছেছে। জবাবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ১২৫% শুল্ক আরোপ করেছে। এতে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ চেইনে বিপর্যয়, আর্থিক বাজারে অস্থিরতা এবং মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেন, চীন আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও বেইজিং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রই এই আলোচনার অনুরোধ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে উল্লেখ করেন, চীনা পণ্যের ওপর ৮০% শুল্ক “যথোপযুক্ত”। যদিও বর্তমানে শুল্কহার এরও অনেক বেশি, এই মন্তব্য আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শুধু বাণিজ্য নয়, প্রযুক্তি, ফেন্টানিল পাচার ও ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা আন্তর্জাতিক ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছে, চীন যেন অভ্যন্তরীণ বাজার উন্মুক্ত করে, আমেরিকান পণ্য বেশি আমদানি করে এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক মডেল থেকে সরে এসে আরও ভোক্তাকেন্দ্রিক অর্থনীতির পথে হাঁটুক। কিন্তু এ দাবি মানতে গেলে চীনকে শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে ব্যয়বহুল সংস্কার করতে হবে, যা তারা সহজে মেনে নিতে চায় না। চীন বরং চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার, চীনকে কী কী পণ্য বেশি কিনতে হবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটিকে সমমর্যাদার অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হোক।

এ দ্বন্দ্বমূলক অবস্থান থেকেই স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি বৈঠকটিতে হওয়া সম্ভব নয়। সম্ভাব্য একটি মধ্যমপন্থা হতে পারে। তা হলো ১৪৫% শুল্ক হার কিছুটা কমিয়ে ৮০ বা ৬০ শতাংশে নামিয়ে আনা ও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রদান। যদিও এ আলোচনার ফলাফলকে উভয় পক্ষই নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারে, কিন্তু মূল কাঠামোগত সমস্যা থেকে যাবে। বিশ্বব্যবস্থায় একদিকে সস্তা চীনা উৎপাদন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ ভোক্তা চাহিদা নির্ভরতা থেকেই বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান আসছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন