প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূসের মূল আইডিয়াটা হচ্ছে বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ করা — এমন মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ইকোনমিক উন্নতি নতুন উচ্চতায় নিতে হলে এ দেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এটি হবে চট্টগ্রাম বন্দরকে সামনে রেখে।’ শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন — ‘শুধু বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য নয়, এটা পুরো রিজিওনের ৩০-৪০ কোটি লোকের জন্য। যে পণ্য এখানে তৈরি হবে, যে পণ্য মানুষজন এসে বানাবেন, সেই পণ্য শুধু বাংলাদেশ ও আশপাশের দেশে বিক্রি করবেন না, তারা তা বিদেশেও রপ্তানি করবেন। এ রপ্তানির জন্য সক্ষম বন্দর দরকার।’
তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রামের পোর্ট সিস্টেমকে সক্ষম করতে হবে। কারণ এটা দিয়ে প্রচুর পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করতে হবে।’ প্রসঙ্গক্রমে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ধরেন একজন আমেরিকান রপ্তানিকারক বাংলাদেশে পণ্য বানিয়ে নিজের দেশে নিয়ে যাবে। সে তো চাইবে কত দ্রুত বানিয়ে পণ্য নিয়ে যেতে। এখানে বানাতে আসবে, কারণ এখানে কস্ট অব প্রডাকশন কম, বেতন দিতে হবে কম। বানানোর পর যত দ্রুত রপ্তানি করা যায়, এর জন্য বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এই জন্য বিদেশি সবচেয়ে ভালো কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলছি আমরা, যাতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ে।’
চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও আশপাশের টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা ১ দশমিক ২৭ মিলিয়ন টিইইউএস (২০ ফুট দীর্ঘ) কনটেইনার।এ সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে — ২০৩০ এর মধ্যে এটা ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টিইইউএসে নেওয়া, মানে ৬ গুণ বাড়ানো। বাংলাদেশকে ইকোনমিক হাব, ম্যানুফেকচারিং হাব করতে হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা নাম্বার ওয়ান, পূর্বশর্ত।’ এসময় দেশি অপারেটররা টার্মিনাল হ্যান্ডলিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণ বিনিয়োগ লাগবে, বিশেষজ্ঞ লাগবে সেটি দেশি কারও নেই। উন্নত বিশ্বের অনেক বড় বড় বন্দর অভিজ্ঞ প্রাইভেট কোম্পানিকে দিয়েছে। আমাদের সেই বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নেই।’


