বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি প্রকাশিত প্রথম climate stress testing প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, অবিলম্বে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের ব্যাংক খাত মারাত্মক আর্থিক ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। ‘আর্থিক স্থিতিশীলতা বিভাগ’ কর্তৃক পরিচালিত এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জলবায়ুজনিত উচ্চ ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোতে ঋণ ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে।
প্রতিবেদনটি ভবিষ্যতমুখী একটি climate stress testing কাঠামো গঠন করে বিভিন্ন ধরনের সম্ভাব্য জলবায়ু পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধীরগতি হয়ে গেলে ব্যাংকগুলোর non-performing loan (অসুস্থ ঋণ) অনুপাত বাড়ে এবং সেই সঙ্গে ঋণ ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। উচ্চ ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো ধারাবাহিকভাবে বেশি ঋণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অভিঘাতে ব্যাংক খাতের দুর্বলতা তুলে ধরে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, “যেকোনো সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রোধে অবিলম্বে জলবায়ুবিষয়ক পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।” প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, দেশের যেসব অঞ্চলে জলবায়ু ঝুঁকি সবচেয়ে প্রকট হয়ে উঠতে পারে, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠানটির মতে, আগাম ও সমন্বিত উদ্যোগই পারে আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনতে।
প্রতিবেদনটিতে econometric satellite models ব্যবহার করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও অসুস্থ ঋণের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং capital engine models দ্বারা বিভিন্ন জলবায়ু পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ঋণ ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া নমুনাভুক্ত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিশেষ করে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত, ঋণ ক্ষতির চাহিদা বাড়তে পারে—যদি দেশ দেরিতে অভিযোজন নীতি গ্রহণ করে কিংবা বর্তমানে চলমান নীতিতে স্থবির থাকে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু সুপারিশ উত্থাপন করেছে। ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তারা জলবায়ু ঝুঁকি তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করে, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করে। একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তদারককারী সংস্থাগুলোর জন্যও কিছু সুপারিশ করা হয়েছে, যেমন—জলবায়ু ঝুঁকি গভর্ন্যান্সে নির্দেশিকা তৈরি, তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু বিবেচনার অন্তর্ভুক্তি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনই কোনো কঠোর মূলধন সংরক্ষণের নির্দেশনা দিচ্ছে না। বরং তারা ব্যাংক ও তদারক সংস্থাগুলোর মধ্যে জলবায়ু ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি সময়োপযোগী সতর্কতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।


