২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে গত শনিবার পর্যন্ত নতুন করে আরও ১ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে গত বছরের মে-জুনের পর। চলতি বছরের প্রায় প্রতিদিন নাফ নদ ছাড়াও পাহাড়ি পথে নানাভাবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা সরকারের সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘাতের পর থেকে রোহিঙ্গারা নতুনভাবে বাংলাদেশে ঢুকছে। জান্তা সরকার সেখানে পরাস্ত হওয়ার পরও রোহিঙ্গার ঢল থামছে না। শুধু গত সপ্তাহেই রাখাইন থেকে এসেছে ৬ হাজারের বেশি। ইতোমধ্যে যৌথভাবে তাদের আঙুলের ছাপও সংগ্রহ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) ও বাংলাদেশ সরকার। আঙুলের ছাপও নেওয়া হলেও নতুন আসা রোহিঙ্গাদের চোখের আইরিশের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের অনুমতি এখনও দেয়নি বাংলাদেশ সরকার।
নতুনদের নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ ১৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। নতুন আসা রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই বর্তমানে কক্সবাজারের ২০টি ক্যাম্পে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় অবস্থান করছেন। তাদের আবাসস্থলের ব্যবস্থা করার জন্য এরইমধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছে ইউএনএইচসিআর। সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বলেছেন, নতুন করে আসা এক লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গার আবাসস্থল গড়ে তোলার মতো জায়গা বর্তমানে তাদের কাছে নেই। এছাড়া নতুন আবাসস্থল নির্মাণের প্রচেষ্টা দেখানো হলে সেটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে কঠিন করে তুলবে। কারণ এতে রাখাইনে অবস্থানরত অন্য রোহিঙ্গারাও বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত হবেন।
কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকির মুখে আছে বাংলাদেশ। তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেনদরবার করছে বাংলাদেশ। এখন প্রত্যাবাসনের বদলে আরও নতুন রোহিঙ্গা দেশে ঢোকায় চাপে পড়ছে বাংলাদেশ। যৌথ সাড়াদান কর্মসূচির (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান-জেআরপি) আওতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে প্রতিবছর প্রতিশ্রুত বরাদ্দ কমছে। এমন বাস্তবতায় নতুনভাবে রোহিঙ্গা প্রবেশ বাংলাদেশের জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।


