যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর প্রথম ১০০ দিনে বিশ্বব্যাপী শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছেন, বৈদেশিক সহায়তা কমিয়েছেন, ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে নেটো মিত্রদের উপেক্ষা করে রাশিয়ার বয়ানকেই সমর্থন করেছেন। গ্রিনল্যান্ড, পানামা খাল দখল এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্যে পরিণত করার কথাও প্রকাশ্যে বলেছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যে ‘নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা’ গড়ে উঠেছে, তার ভিত্তি ১০০ দিনের কম সময়ে নজিবিহীন ও অপ্রত্যাশিতভাবে নড়বড়ে করে তুলেছেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ভিত্তিপ্রস্তর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি বা আমেরিকা ফার্স্ট পলিসি। এই নীতি বাস্তবায়নের প্রয়াসে তার কাজকর্মে দীর্ঘদিনের মিত্ররা দূরে সরে যাচ্ছে আর প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখন আগের চেয়ে বেশি সরব হচ্ছে। তার প্রতিটি পদক্ষেপ এত বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি করছে যে, সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় দুঃসাধ্য হবে। এই সংকট কেবল বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে নয়, অভ্যন্তরীণ কাঠামোতেও ভাঙনের আভাস দেখছেন সমালোচকরা। তাদের মতে, মার্কিন গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলেছেন ট্রাম্প। বিচারকদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক বাক্যবিনিময়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ এবং বিতাড়িত অভিবাসীদের এল সালভাদরের কারাগারে পাঠানোর মতো পদক্ষেপের কারণে মার্কিন আইনের প্রতি প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একাধিক সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিশ্লেষকের সাথে কথা বলেছে রয়টার্স। অনেকেই বলেছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপে এরই মধ্যে যেসব ক্ষতি হয়েছে সেগুলোর কিছু দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তবে তিনি নমনীয় অবস্থান নিলে সেসব ক্ষতি কাটানো সম্ভবও হতে পারে। কিছু বিষয়ে ট্রাম্প অবশ্য কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন, যেমন শুল্ক আরোপের সময়সূচি ও মাত্রা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের নাটকীয়ভাবে অবস্থান বদলানোর সম্ভাবনা কম। ফলে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের স্বার্থরক্ষার প্রস্তুতি নেবে তেমন সম্ভাবনাই দেখছেন তারা। এমন উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরুও হয়েছে।
মার্কিন অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইউরোপীয় মিত্ররা নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির চিন্তা করছে।এমনকি অনেকে এটাও বিবেচনা করছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের অবনতি হলে অর্থনৈতিকভাবে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করা যায় কিনা। হোয়াইট হাউজ অবশ্য ট্রাম্পের নীতিকে সমর্থন করে বলেছে, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দুর্বল নেতৃত্বের ক্ষতি পুষিয়ে দিচ্ছেন। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউজেস বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়াকে শান্তি আলোচনায় বসাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এছাড়া, তিনি চীনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনছেন, ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি আবার চালু করছেন এবং দক্ষিণ সীমান্ত রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এপ্রিলের শেষের দিকে রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্প রাশিয়ার সাথে খুব বেশি ঘনিষ্ঠ। একইসাথে তার সম্প্রসারণবাদী নীতির প্রতি জনসমর্থনও বেশ দুর্বল।


