ঢাকা শহরের চারপাশে একটি সুসংগঠিত ‘ব্লু নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর অভ্যন্তরে ইতিমধ্যেই ৬টি খাল পুনরুদ্ধার ও খননের কাজ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে বছর শেষের মধ্যে মোট ১৯টি খাল দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত করে পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার পানি ভবনে বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পানি বিষয়ক গ্লোবাল পার্টনারের প্র্যাকটিস ম্যানেজার সুমিলা গুলায়নির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে উপদেষ্টা এসব তথ্য তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা জানান, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ঢাকাকে একটি পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই শহরে রূপান্তর করা। এজন্য খাল ও নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার জরুরি। ইতোমধ্যে শুরু হওয়া ৬টি খালের কাজ ছাড়াও অতিরিক্ত ১২টি খালও এ বছর পুনরুদ্ধারের আওতায় আনা হবে। এছাড়া, ঢাকা ঘিরে থাকা চারটি গুরুত্বপূর্ণ নদী—বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতালক্ষ্যা—দখল ও দূষণমুক্ত করার কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে। উপদেষ্টা বলেন, “যেটা আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত করে, সেটা হলো পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন জনগণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। তারা যখন কোনো সমস্যা শনাক্ত করে এবং দ্রুত সাড়া দেয়, তখন মানুষের আস্থা বাড়ে। এই বিশ্বাস অর্জনই উন্নয়ন কার্যক্রমের সফলতার ভিত্তি।”
বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই বিশ্ব ব্যাংক আমাদের এই নদী ও খাল পুনরুদ্ধার উদ্যোগে পাশে থাকুক। নগর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।” সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু প্রকৌশলগত সমাধানের চেয়ে সামাজিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রকৌশলী ও সমাজকর্মীর সমন্বয়ে যদি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মানুষের জরুরি প্রয়োজন ও আবেগের প্রতিফলন প্রকল্পে থাকবে। এটিই আমাদের প্রথম এজেন্ডা হওয়া উচিত।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রধান সমস্যা তিনটি—বন্যা ও ভাঙন, সেচের পানির ঘাটতি এবং পলি জমা। এই সমস্যাগুলো সমাধান না করে যদি আমরা প্রকল্প বাস্তবায়ন করি, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্বাঞ্চল) মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ, অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম চৌবে এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম। পরিশেষে উপদেষ্টা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “মানুষের আস্থা অর্জন করেই আমরা এই শহরকে জল-সংস্কৃতির নগরীতে রূপান্তর করতে পারি। ব্লু নেটওয়ার্ক শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি একটি জীবিত শহরের প্রাণনির্মাণের প্রচেষ্টা।”


