যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক চীনা পণ্যে ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর চীনের বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা আন্তর্জাতিক বাজারে এক সংকটময় অবস্থায় পড়েছেন। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল যেসব প্রতিষ্ঠান লাঞ্চ বক্স, হোম গুডসসহ দৈনন্দিন পণ্য তৈরি করত, তারা হঠাৎ করেই ক্রেতা হারিয়ে এখন দেশীয় বাজারে ফেরার চেষ্টা করছে। এই সংকট মোকাবিলায় চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Rednote-এ এক নতুন প্রবণতা দেখা গেছে। উদ্যোক্তারা সেখানে লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে মার্কিন বাজারের জন্য প্রস্তুতকৃত পণ্যগুলো চীনা ক্রেতাদের কাছে ছাড়ে বিক্রির প্রস্তাব দিচ্ছেন। এটি শুধুই বিক্রির কৌশল নয়, বরং একধরনের ‘প্রতিরোধের ভাষা’ হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছে। “Save the factory” কিংবা “China can make it”—এমন সব হ্যাশট্যাগ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এই উদ্যোগে দেশের বড় প্রতিষ্ঠান যেমন JD.com ও আলিবাবার মালিকানাধীন Freshippo-ও যুক্ত হয়েছে। JD.com সরকার-সমর্থিত প্রচারণার অংশ হিসেবে একটি নতুন ফান্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার। উদ্দেশ্য—রপ্তানিকারকদের স্থানীয় বাজারে টিকে থাকার সুযোগ করে দেওয়া। চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংজু শহরে অনুষ্ঠিত চীনের সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্যের মেলা ক্যান্টন ফেয়ারে উপস্থিত রপ্তানিকারকেরা বলছেন—যুক্তরাষ্ট্রের বাজার তাঁদের জন্য এখন কার্যত বন্ধ ।রপ্তানি খাতে কাজ করা বিশ্লেষকেরা একে নিছক বিপণন বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। বরং তাঁরা বলছেন, এমন বিপণন কৌশল সময়োপযোগী এবং কার্যকর।
তবে রেডনোটে লাইভস্ট্রিম করা বেশ কয়েকজন বিক্রেতা রয়টার্সের সঙ্গে যোগাযোগে সাড়া না দেওয়ায় বিষয়টির প্রামাণ্যতা নিয়ে কিছু সংশয়ও তৈরি হয়েছে। তবুও ডিজিটাল পরামর্শক অ্যাশলে দুদারেনক মনে করেন, এই সংকটের মধ্যেও চীনের মধ্যে এক ধরনের ঐক্যবোধ তৈরি হচ্ছে—যা জাতীয়তাবাদী আবেগকে উসকে দিতে পারে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি বৃদ্ধির একটি মনস্তাত্ত্বিক জোগান দেবে ।এই সংকট হয়তো নতুন বাজারের সন্ধানে চীনা উদ্যোক্তাদের আরও সাহসী করে তুলবে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক-নীতির ফলে সংকট তৈরি হলেও, তা দীর্ঘমেয়াদে চীনের ভোক্তা মনস্তত্ত্ব এবং বিপণন কৌশলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটাতে পারে।


