বসন্ত শেষে বাংলায় শুরু হয়েছে গ্রীষ্মকাল। এই ঋতুতে তীব্র তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া ও হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত ঘাম, পানিশূন্যতা ও জীবাণুর বিস্তারে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এই সময়ে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি ও তার প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
সর্দি-জ্বর
গ্রীষ্মকালে অনেকেই অতিরিক্ত গরমের পর হঠাৎ ঠান্ডা পানীয় পান বা এসিতে প্রবেশের কারণে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হন। এর প্রতিকার হিসেবে ভিটামিন সি ও জিংকযুক্ত খাবার গ্রহণ, গরম পানিতে লেবু বা স্যুপ পান করা ভালো। এছাড়া ঠাণ্ডা কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা ও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়া উচিত।
ঘামাচি
প্রচণ্ড গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে ত্বকে ছোট ছোট র্যাশ উঠতে পারে, যা ঘামাচি নামে পরিচিত। সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান, পানিশূন্যতা রোধ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাতাস চলাচলযোগ্য ঘরে থাকার মাধ্যমে ঘামাচি প্রতিরোধ করা যায়। শিশুর ক্ষেত্রে ঘন ঘন পাশ পরিবর্তন করানো জরুরি। প্রয়োজনে অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ ব্যবহার করা গেলেও তা বিশেষজ্ঞের পরামর্শেই গ্রহণ করা উচিত।
সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার
ঋতু পরিবর্তনের সময় মন ও শরীর উভয়ের ওপর প্রভাব পড়ে। এই সময়ে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, ক্লান্তি ও ঘুমজনিত সমস্যার নাম সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার (SAD)। এ সমস্যা দূর করতে পছন্দের কাজ করা, নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে মনের ভার হালকা রাখা সম্ভব। তবে তীব্রতা বেশি হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
হিট স্ট্রোক
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় থাকলে শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে হিট স্ট্রোক হতে পারে। এটি জীবনঘাতীও হতে পারে। তাই ঢিলেঢালা হালকা পোশাক পরিধান, ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। কেউ হিট স্ট্রোক করলে তাকে শীতল স্থানে নিয়ে গিয়ে শরীর ভেজানো, বরফ দেওয়া এবং দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি করণীয়।
ফুড পয়জনিং
এই সময় দ্রুত খাবার নষ্ট হয়ে ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। বাসি, অস্বাস্থ্যকর বা জীবাণুযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে পেটব্যথা, বমি, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি হতে পারে। তাই রান্নার আগে ভালোভাবে উপকরণ ধোয়া, খাবার ঢেকে রাখা, বিশুদ্ধ পানি পান এবং পরিষ্কার থালাবাসনে খাওয়া উচিত।
সতর্কতা ও সচেতনতাই পারে এই গরমে সুস্থ থাকতে সাহায্য করতে। নিয়ম মেনে চললেই অনেক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তাই এ সময়ে নিজে সচেতন হোন এবং অন্যদেরও সচেতন করুন।


