তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের মেয়র ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী একরেম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে বিক্ষোভছড়িয়ে পড়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা একরেম ইমামোগলুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউটররা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগ এনেছেন এবং তাকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ১০০ জনকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন। এদিকে, ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় শহরে চার দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এর প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ও পাতাল রেলস্টেশনে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। বহু বছর পর তুরস্কে এমন গণঅসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। ইমামোগলুর স্ত্রীসহ বিরোধী দলের নেতারা জনগণকে ‘আপনার আওয়াজ তুলুন’ বলে আহ্বান জানিয়েছেন। তুরস্ক বুধবার থেকে এক্স, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গত কয়েক মাসে তুরস্কে বিরোধী রাজনীতিক, পৌরসভা কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিনোদন জগতের ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। গত বছর ইমামোগলু ইস্তাম্বুলের মেয়র হিসেবে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন। তখন তার দল সিএইচপি ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারার স্থানীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়। এরদোয়ান ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে তার দলের নির্বাচনে এমন পরাজয় ঘটেছিল।
ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের পর তুরস্কের স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কেউ কেউ আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছেন। যুক্তি দিয়েছেন, এখন আর অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে ২২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা এরদোয়ান ও তার দল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তুরস্কের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন। তুরস্কের আইনমন্ত্রী ইয়িলমাজ তুঞ্চ দাবি করেছেন, এটি রাজনৈতিক কোনো পদক্ষেপ নয় এবং তুরস্কে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের এক দিন আগে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় তার স্নাতক ডিগ্রি বাতিল করে। অভিযোগ করে, এটি অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত। এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৮ সালে হওয়ার কথা। এরদোয়ান তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, কারণ তিনি এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কেবল তখনই আবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন, যদি সংবিধান পরিবর্তন করা হয় অথবা মেয়াদ শেষের আগেই নির্বাচন আহ্বান করা হয়। ইমামোগলুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে, পাশাপাশি তাকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-কে সহায়তা করার অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স ও জার্মানির কর্মকর্তারা ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন।ইউরোপীয় পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইমামোগলুর গ্রেপ্তার ‘একজন সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে চাপ প্রয়োগের স্পষ্ট উদাহরণ’।


