২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বরাদ্দের চেয়ে ২২ হাজার কোটি টাকা বা ৫৫ শতাংশ বেশি। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে, বিদ্যুতে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ানোর কারণে সরকারের উপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে বিশেষ আইন বাতিল, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি পর্যালোচনা, ট্যারিফ কাঠামো সংশোধনসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবুও বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় কমানো সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিতর্কিত চুক্তি বাতিলের মতো বড় কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় খাতের ব্যয় কমানোর লক্ষণ নেই।
বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, সরকার প্রতি বছর যে পরিমাণ ভর্তুকি বরাদ্দ দেয়, তা অর্থ সংকটের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে বকেয়া অর্থ পুঞ্জীভূত হয় এবং ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এই বকেয়া পরিশোধের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিশেষ বন্ড ইস্যু করে ২০ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিলকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাতে যথাযথ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ না নেয়ায় ব্যয় কমানো সম্ভব হয়নি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি ও অযৌক্তিক ব্যয়ের কারণে ভর্তুকি বাড়ছে, যা সরকারের সংস্কারের অভাবকে স্পষ্ট করে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিমও বলেন, বিদ্যুৎ খাতে খরচ সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করা হলেও আগের বকেয়া এবং ঋণের সুদ পরিশোধের কারণে ব্যয় বেড়েছে। সামনে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমাতে এবং খরচ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে। তবে এসব পদক্ষেপের ফলাফল আসতে আরো কিছু সময় লাগতে পারে। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং বকেয়া পরিশোধের চাপ দেশের আর্থিক পরিস্থিতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। সঠিক সংস্কার এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।


