দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সামাজিক অপরাধ। মাদকাসক্তি, পারিবারিক কলহের জের, জমি নিয়ে বিরোধ, অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এবং নৈতিক অবক্ষয় থেকে সামাজিক অপরাধ ঘটছে। এর মূল কারণ নিঃসন্দেহে আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকা ও বিচারহীনতা। কিন্তু একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ–নীতিনৈতিকতা, আদর্শ ও মূল্যবোধের যে চরম অবক্ষয় ঘটেছে, সেটা রোধ করতে সামাজিক অন্যান্য আয়োজন বা ব্যবস্থাগুলোকে ঢেলে সাজানো। সারা দেশে নারী বিশেষ করে শিশু ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধের মাসিক ডাটাবেজ অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশে ৫৯৪ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধেক খুনের ঘটনা ঘটেছে সামাজিক অপরাধকে কেন্দ্র করে।
সামাজিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব-কলহের কারণে অবলীলায় খুন হচ্ছে মানুষ। আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে পারিবারিক হত্যাকাণ্ড।মামুলি বা তুচ্ছ কারণে নৃশংসতা ঘটছে। সামাজিক অপরাধগুলোর বেশির ভাগই অর্থসম্পদকে কেন্দ্র করে হচ্ছে। এসব কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতির দৃষ্টান্তই নয়, সামাজিক অসুস্থতারও লক্ষণ। ভোগবাদী সংস্কৃতি, সামাজিক যাগাযোগ মাধ্যম মানুষের সামাজিক – নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। মানুষ হয়ে উঠছে প্রাতিশোধপরায়ণ।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক অপরাধপ্রবণতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক প্রতিরোধও দরকার।এই ক্ষেত্রে সামাজিক অস্থিরতা ও অসহিষ্ণুতার কারণ অনুসন্ধান এবং তা দূরীকরণে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। দরকার পারিবারিক, সামাজিক ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধের চর্চা। সুস্থ মানস গঠনে সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ব্যবস্থা দরকার। প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে মানবিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ না থাকলে সমাজের অসুস্থতা বাড়বে। তা আক্রান্ত করবে সবাইকেই।


