ট্রাম্প সরকার যুক্তরাষ্ট্রের উপর বিভিন্ন দেশের ধার্য্য করা শুল্কের যে হিসেবের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, সেই হিসাবটা বেশ আজগুবি। খেয়াল করে দেখবেন ‘Tariffs Charged to the U.S.A’ বা ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর ধার্য্য করা শুল্কের’ কলামে ‘currency manipulation and trade barriers.’ বা ‘মুদ্রা কারসাজি ও বাণিজ্যিক বাধার’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু মার্কিন পণ্যের উপর আমদানি শুল্কই না, এর সাথে মুদ্রা কারসাজি ও বাণিজ্যিক নানা বাধারও হিসাব করা হয়েছে মার্কিন পণ্যের উপর কোন দেশের ধার্য্য করা শুল্কের হিসেবে।
কিন্তু এই হিসাবটা কিভাবে করা হয়েছে তার কোন ব্যাখ্যা দেয়নি ট্রাম্প সরকার। বলা হয়েছে চীন কর্তৃক মার্কিন পণ্যের উপর ধার্য্য করা শুল্কের হার ৬৭%, ভিয়েতনাম কর্তৃক ধার্য্য করা শুল্কের হার ৯০%। এগুলো অবিশ্বাস্য! চীন কিংবা ভিয়েতনাম যদি আসলেই এই বিপুল শুল্ক ধার্য্য করতো তাহলে বহু আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটা নিয়ে আপত্তি করতো, হৈ চৈ করত। তাহলে এই কথিত শুল্কের হিসাব কিভাবে করল ট্রাম্প সরকার? মার্কিন বিশ্লেষকরা কেউ কেউ বলছেন, এর উত্তর হলো স্রেফ কোন দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতিকে যুক্তরাষ্ট্রে ঐ দেশের মোট রপ্তানি দিয়ে ভাগ করে পারেসেন্টেজ করেছে।
যেমন :
দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি
শুল্ক হিসাব
বাংলাদেশ
৮.৪ (বিলিয়ন $)
২.২ (বিলিয়ন $)
৬.২ (বিলিয়ন $)
(৬.২/৮.৪) × ১০০%
= ৭৪% এভাবেই বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য ঘাটতির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির অনুপাতকে শুল্ক হিসেবে চালিয়ে দিয়ে ট্রাম্প সরকার কথিত Tariffs Charged to the U.S.A. হিসেব করেছে। এই ধরণের আজগুবি শুল্কের হিসাবের উদ্দেশ্য কতটা মার্কিন পণ্যের উপর কথিত শুল্ক কমানো আর কতটা রপ্তানিকারক দেশগুলোকে ব্ল্যাকমেল করে বাড়তি সুবিধা আদায় সেটা সামনে আরো পরিস্কার হবে।”


