নেপালে রাজতন্ত্র এবং হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সাম্প্রতিক আন্দোলন ক্রমশ হিংসাত্মক রূপ নিচ্ছে। একজন সাবেক মাওবাদী কমান্ডার দুর্গা প্রসাই এই রাজতন্ত্র ফেরানোর অন্যতম প্রধান প্রবক্তা। দুর্গা প্রসাই একসময় প্রচণ্ড-র নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (মাওবাদী)-এর সশস্ত্র শাখা পিপলস লিবারেশন আর্মির একজন যোদ্ধা ছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি রাজতন্ত্র উচ্ছেদের জন্য গেরিলা যুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন। প্রসাই পরবর্তীতে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কেপি ওলির ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তবে, ২০২২ সালে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি সরাসরি রাজতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে যোগ দেন।
নেপালে রাজতন্ত্র ও হিন্দু রাষ্ট্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে গড়ে ওঠা সাম্প্রতিক আন্দোলনে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্রীর প্রজাতন্ত্র পার্টি (আরপিপি) যোগ দিয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। আন্দোলন পরিচালনার জন্য গড়ে ওঠা ‘জয়েন্ট পিপল্স মুভমেন্ট কমিটি’র (জেপিএমসি) নেতৃত্বের মধ্যে অন্যতম হলেন দুর্গা। পুলিশের অভিযোগ, দুর্গা প্রসাই কাঠমান্ডুতে সাম্প্রতিক হিংসাত্মক ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছেন। তিনি গাড়ি দিয়ে পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে দেন, যা সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার কারণ হয়। সহিংসতার অভিযোগে রাজতন্ত্রপন্থী রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির (আরপিপি) সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্গা প্রসাই পলাতক রয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি কাঠমান্ডুর একটি মন্দিরে আত্মগোপন করে আছেন।
নেপালে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার পর ২০০৮ সালে সংবিধান সংশোধন করে ২৪০ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করা হয় এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালে নেপাল একটি নতুন ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান গ্রহণ করে। ১৭ বছরে নেপালে ১৩ বার সরকার পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির কারণে রাজতন্ত্রের প্রতি সমর্থন আবার বাড়তে শুরু করেছে। আন্দোলনকারীরা মনে করেন, রাজতন্ত্র এবং হিন্দু রাষ্ট্র ফেরানো গেলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সুরক্ষিত হবে।
এই আন্দোলনের কারণে নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে সরকার ও প্রধান দলগুলো গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা রক্ষার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে রাজতন্ত্রের সমর্থকেরা তাদের দাবিতে অনড়। প্রায় দুই দশক আগে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেষ রাজা জ্ঞানেন্দ্র বর্তমানে কাঠমান্ডুর ‘নির্মল নিবাস’-এ একজন সাধারণ নাগরিকের মতো জীবনযাপন করছেন।সংবিধান অনুযায়ী, তার কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই। এমনকি, রাজপ্রাসাদে যাওয়ার বা সরকারি কোনো সুবিধা পাওয়ারও অধিকার তার নেই।


