আমরা সবাই শুনেছি রাতে সাত থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো কতটা জরুরি। বলা হয়, এ সময়ের চেয়ে কম ঘুমালে স্বল্প বা দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে। যেমন- স্মৃতিশক্তির সমস্যা, বিপাকে সমস্যা, হতাশা, ডিমনেশিয়া, হৃদরোগ এবং দুর্বল ইমিউন সিস্টেম। তবে সম্প্রতি গবেষকরা দেখছেন, কিছু মানুষ যারা নিয়মিতভাবে কম ঘুমিয়েও তাদের শরীর বা মনের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। স্বাভাবিকভাবে এ স্বল্প-ঘুমানো ব্যক্তিদের ন্যাচারাল শর্ট স্লিপারস বলা হয়। এদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যই এমন। তাদের রাতে মাত্র চার থেকে ছয় ঘণ্টা ঘুমেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান।
এ জেনেটিক বৈশিষ্ট্যধারীরা প্রমাণ করেন যে, ঘুমের পরিমাণের চেয়ে ঘুমের গুণগত মান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব ব্যক্তিদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য আলাদা করা গেলে গবেষকরা ঘুমের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও বৈজ্ঞানিক তথ্য আবিষ্কার করতে পারবেন। আজকের দিনে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতি রাতে পাঁচ ঘণ্টারও কম ঘুমাচ্ছেন।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (সান ফ্রান্সিসকো) একজন স্নায়ুবিজ্ঞানী লুই পটাচেক ও তার সহকর্মী ইং-হুই ফুয়ের কাজ করতে গিয়ে এমন একটি পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হন যাদের খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস হলেও তারা ঘুমাতে যেতেন দেরিতে। আর মাত্র ছয় ঘণ্টা ঘুমেই তারা সতেজ অনুভব করতেন। তারাই ছিলেন প্রথম পরিবার যাদের মধ্যে ন্যাচারাল শর্ট স্লিপের অস্তিত খুঁজে পান গবেষকরা। তাদের এ জিনগত বৈশিষ্ট্য তারা উত্তরাধিকারসূত্রেই পেয়েছেন বলে জানান তারা। ফু ও পটাচেক তাদের এ কম ঘুমের কারণ হিসেবে তাদের দেহের ডিইসি-২ নামক জিনের মিউটেশনকে দায়ী করেন।
গবেষকরা ডিইসি-২ মিউটেশনকে ইঁদুরের জিনে প্রবেশ করান এবং দেখতে পান যে, ইঁদুরগুলো তার সঙ্গীদের তুলনায় কম ঘুমাচ্ছে। এসব বিষয় গবেষণা করতে গিয়ে গবেষকরা স্বল্প ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন ৭টি জিন চিহ্নিত করেন। এখনো স্পষ্ট নয় যে, কম ঘুমের জন্য দায়ী জিনগুলো কীভাবে মানুষের ওপর খারাপ ঘুমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করে অথবা এসব জিনের মিউটেশন কীভাবে ঘুমকে আরও কার্যকর করে তোলে। পটাচেক বিরক্ত হন যখন তিনি শুনেন, ‘সবার রাতে আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অনেকটা জনসংখ্যার সবার উচ্চতা ৫ ফুট ১০ হওয়া উচিত বলার মতো।’


