বাংলাদেশে আরও বেশি সংখ্যক নারী কাজের সুযোগ পেলে পণ্য, সেবা এবং কৃষি খাতে উৎপাদন প্রায় ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা বিশ্বব্যাংকের। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া উন্নয়ন হালনাগাদ রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু উৎপাদন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশে উৎপাদন ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদিও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবুও বৃহত্তর উৎপাদন খাতে নারীদের অংশগ্রহণের হার এখনো অনেক কম, এবং নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য রয়ে গেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণের হার ৩৭ শতাংশেই স্থির রয়েছে। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, নারীদের কর্মসংস্থানে আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার জন্য কিছু বাধা অপসারণ করা প্রয়োজন। এসব বাধার মধ্যে রয়েছে-সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, নিয়ন্ত্রণমূলক আইন, এবং সামাজিক রীতিনীতির প্রভাব। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নারীরা শক্তির মূল উৎস হলেও, নারীদের আরও বেশি কাজের সুযোগ প্রদান করতে কিছু সংস্কার প্রয়োজন। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, “নিয়োগকর্তারা প্রায়ই নারীদের কাজে নিতে দ্বিধায় থাকেন। অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নেই।” তিনি আরও জানান, নারীর কাজের সুযোগ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যদি আরও বেশি নারী কৃষি খাতে যুক্ত হন তবে শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়ার পাশাপাশি কর্মস্থলে লিঙ্গ বৈষম্যও কমে যাবে। সেবাক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার ফলে ৮.১২ শতাংশ লাভের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণের হার কম থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছে।উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার সবচেয়ে কম।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সিসকা ওনসোর্গ বলেন, “নারীর কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের, বেসরকারি খাতের, সমাজ এবং পরিবারের সকল পক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।” এছাড়াও দেশে ডে-কেয়ারের সুবিধা না থাকায় নারীদের সন্তানের দেখাশোনা করতে করতেই কেটে যায় অনেক লম্বা সময়। এজন্য অনেকে ইচ্ছে থাকলেও নিশ্চিন্তে ঘরের বাইরে গিয়ে কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেন না।


