জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণেরা নিজেরা যেমন স্লোগান তৈরি করেছেন, তেমনি ব্যবহার করেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রাম থেকে জন্ম নেওয়া স্লোগানও। তার একটি ‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও শীর্ষ ছাত্রনেতাদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ স্লোগান ব্যবহার করেছেন। এ স্লোগানের পটভূমি কিউবার স্বাধীনতার সংগ্রাম। কিউবার সংবাদমাধ্যম হাভানা টাইমসে প্রকাশিত একটি লেখা থেকে জানা যায় স্লোগানটির জন্ম ১৮৬৮ সালে স্পেনের উপনিবেশ থেকে কিউবার স্বাধীনতার সংগ্রামের শুরুর দিকে। তখন স্লোগানটি ছিল ‘স্বাধীনতা অথবা মৃত্যু’।
১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লবে পতন ঘটে কিউবার মার্কিন মদদপুষ্ট বাতিস্তা সরকারের। এরপর কিউবায় ঘটতে থাকে একের পর অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনা। ১৯৬০ সালের মার্চে কিউবার রাজধানী হাভানার সমুদ্রবন্দরে একটি ফরাসি জাহাজে বোমা হামলায় মারা যান ১০০ জন। ওই বছরের ৬ মার্চ নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যে সহযোদ্ধাদের লাশের কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে ফিদেলের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা প্রতিবিপ্লব ঠেকাতে শপথ নেন ‘স্বদেশভূমি অথবা মৃত্যু’ স্লোগান দিয়ে। ফিদেল সেদিনের বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের বিপ্লব শক্তিশালী, আমাদের বিপ্লব অজেয়। কারণ, আমাদের জনগণ বিপ্লব রক্ষায় জীবন দিতে দ্বিধা করবে না।… আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো আগ্রাসন ও ষড়যন্ত্র আমরা রুখে দিতে পারব। কারণ, আমাদের সামনে একটাই পথ, “মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু”।’
ফিদেলের সেই শপথের পর ১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের অধিবেশনে দেয়া বিখ্যাত এক ভাষণে স্লোগানটি ব্যবহার করেন কিউবার বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক আর্নেস্তো চে গুয়েভারা। পৃথিবীর নিপীড়িত মানুষের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে জাতিসংঘে চে-র বক্তৃতা ও শেষে ‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’ স্লোগান সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এমন একটা সময়ে চে গুয়েভারা স্লোগানটি ফিরিয়ে আনেন, যখন লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকা, এশিয়াসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম জোরদার হচ্ছিল। তৃতীয় বিশ্বের জাতিরাষ্ট্রগুলো ইউরোপীয় উপনিবেশ থেকে একে একে স্বাধীন হচ্ছিল। ফিদেল কাস্ত্রো ও চে গুয়েভারা যে স্লোগান দিয়েছিলেন, তা এখন ব্যবহার করা হচ্ছে বাংলাদেশে।


