বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাসের আগে চাহিদা বাড়ানোর ফলস্বরূপ প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি গত চার মাসে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজান ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবছর রমজান মাসে চিনি, মুসুর ডাল এবং রান্নার তেল সহ খাদ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে বাড়ি ও ব্যবসায়ীরা খাদ্য সরবরাহ মজুদ করতে শুরু করেন। এই প্রবণতাটি প্রতিফলিত হয়েছে কারণ অক্টোবর ২০২৪ থেকে জানুয়ারী ২০২৫ পর্যন্ত মূল পণ্যের জন্য লেটার অব ক্রেডিট (খঈ) নিষ্পত্তি বেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
তথ্য অনুযায়ী রমজান মাসের আগে চাহিদা বাড়ানো, মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলার পরিবর্তনের কারণে মৌলিক পণ্যের জন্য খঈ নিষ্পত্তি দ্বিপাক্ষিক বৃদ্ধির হার দেখিয়েছে। বিবি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, চিনির আমদানি ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫৪,০৩৪ টন হয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৩৭৮,২৬৫ টন। সয়াবিন তেলের আমদানি ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৫৯৮,২৫২ টন হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৪৪৭,৮২০ টন।তবে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি হয়েছে মুসুর ডালের আমদানিতে। যা ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৭,৮৩৭ টনে পৌঁছেছে, যা গত বছরের ১১০,৩৭৮ টনের তুলনায় অনেক বেশি।
একইভাবে, ছোলা ও মটরের আমদানি যথাক্রমে ৮৫ শতাংশ এবং ৬৪ শতাংশ বেড়েছে, যা ডালের চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। “ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধি এড়িয়ে চলতে এবং রমজান মাসে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগেভাগেই তাদের আমদানি নিশ্চিত করছে,” বলেন সিটি গ্রুপের করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স পরিচালক বিদ্ধজিৎ সাহা।তিনি আরও বলেন, রমজান মাস আসন্ন হওয়ায় খঈ নিষ্পত্তির বৃদ্ধির এই প্রবণতা মূলত এই মাসের জন্য খাদ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে। রমজান আসার সাথে সাথে সকলের নজর থাকবে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির দিকে, বলেন তিনি।


