দেশের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন মানুষের সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে অবহেলা, অযত্ন ও অপচিকিৎসার শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। গ্রামের চেয়ে শহরে এই হার বেশি। দেশের ৯১ শতাংশ মানুষ চান, সরকার যেন সব মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে আইনগতভাবে বাধ্য থাকে। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে এই মন্তব্য বা মতামত উঠে এসেছে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারবিষয়ক জনমত জরিপে। কমিশনের অনুরোধে জাতীয় এই জরিপ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বিবিএস এ বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের ৬৪ জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের ৮ হাজার ২৫৬টি থানার ওপর জরিপ করে।
জরিপে ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, গত এক বছরে তাঁরা সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে সেবা নিয়েছেন। সরকারি হাসপাতালে সেবা নেওয়ার হার শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি।তবে মানুষ একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে যেমন সেবা নেন, তেমনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে এবং এনজিওর প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নেন।জরিপে বলা হচ্ছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, গত পাঁচ বছরে তিনি নিজে বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গেছেন।
৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, চেম্বারে চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ করার বিষয়টিকে তাঁরা সমর্থন করেন না। ২৮ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থন করেন, বাকি ৫ শতাংশ বলেন এটি নিয়ে তাঁদের কোনো ধারণা নেই।সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন, চিকিৎসকেরা রোগীকে বেশি সময় দেন না।সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন করতে হলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে তাদের জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখতে হবে স্বাস্থ্য খাতে; কিন্তু বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ মাত্র ১ শতাংশ বা তার কিছু বেশি ৮৮ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলেছেন।


