মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান শীর্ষ জেনারেল চার্লস কিউ ব্রাউনকে বরখাস্ত করেছেন। এর কিছুক্ষণ পরেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রাঙ্কচেট্টি এবং বিমান বাহিনীর উপপ্রধান জেনারেল জেমস প্লিফকে বরখাস্তের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।ব্রাউন, যিনি দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন, এবং প্রথম নারী নৌ-প্রধান ফ্রাঞ্চেটির অপসারণ ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি-বিরোধী নীতির ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হেগসেথ পূর্বেও ফ্রাঞ্চেটিকে ‘ডিইআই (বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি) ভিত্তিক নিয়োগ’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক বাহিনীকে পুনর্গঠন করে যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন হেগসেথ। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পদক্ষেপ প্রশাসনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেরই অংশ।যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রেসিডেন্ট যে রাজনৈতিক মতাদর্শেরই হোন না কেন, প্রশাসনের পরিবর্তনে জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান সাধারণত তাঁর পদে বহাল থাকেন। তবে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা নিজেরা তাঁদের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে চান।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গতবছর প্রকাশিত তার লেখা ‘দ্য ওয়ার অন ওয়রিয়র্ন: বিহাইন্ড দ্য বিট্রেয়াল অব দ্য মেন হু কিপ আস ফ্রি’ বইয়ে প্রশ্ন তোলেন, কৃষ্ণাঙ্গ না হলে ব্রাউন ওই পদ পেতেন কি না। তাঁকে চাকরিচ্যুত করা উচিত। কেননা, সামরিক বাহিনীতে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচিতে (ডিইআই) তাঁর বেশি মনোযোগ।ব্রাউন ২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর একটি আবেগঘন ভিডিও অনলাইনে পোস্ট করে সামরিক বাহিনীতে বর্ণবৈষম্য নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আলোচনায় এসেছিলেন।এর আগে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই কোস্ট গার্ডের প্রথম নারী প্রধান অ্যাডমিরাল লিন্ডা ফ্যাগ্যানকে সরিয়ে দেন।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে পেন্টাগনে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফারস্ট’ নীতির আওতায় সামরিক বাজেটে বড় পরিবর্তন ও বাহিনীর পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে।সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য সিনেটর জ্যাক রিড বলেছেন, ‘রাজনৈতিক আনুগত্যের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বা বৈচিত্র্য ও লিঙ্গবৈষম্যকে কেন্দ্র করে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হলে, সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে’।


