সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে কমপক্ষে ৪ হাজার কোটি টাকা লোপাটের তথ্য পেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মসজিদের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণ, ঠিকাদারি ও অন্যান্য কেনাকাটায় এসব দুর্নীতি হয়েছে। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করেছেন। মডেল মসজিদ প্রকল্পে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের তথ্য পেয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় দুটি পৃথকভাবে এ প্রকল্পের যাবতীয় বিষয় তদন্ত করছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালে প্রতিটি জেলা এবং উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ তৈরি করার জন্য ৮৪২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। পরে শেখ হাসিনা সৌদি আরব সফরকালে দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল-সৌদের সঙ্গে বৈঠকে এ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য প্রস্তাব করেন। সৌদি সরকার এ প্রকল্পে অর্থায়নে সম্মতি দেওয়ার পর এ মডেল মসজিদ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা। যার মধ্যে সৌদি সরকারের অনুদান হিসেবে দেবার কথা ছিল ৮ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। বাকি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে বলে জানানো হয়।
সরকার এ বিষয়ে একটি প্রজেক্ট প্রোফাইল তৈরি করে সৌদি সরকারকে প্রেরণ করে। যাতে প্রতিটি মসজিদের জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে গড়ে ১৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটি নিয়ে সৌদি সরকারের সন্দেহ হলে তারা নিজস্ব পদ্ধতি প্রয়োগ করে অনুসন্ধানের জন্য ঢাকার একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়। ওই সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতিটি মসজিদের জন্য ৮ থেকে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব এ প্রকল্পে অর্থায়ন করতে অসম্মতি জানায়। সৌদি সরকার অর্থায়নে অপারগতা প্রকাশের পর সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় এবং দুই দফায় অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে তা সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করে নেয়। শেখ হাসিনার সরকার ৩০০ মসজিদ উদ্বোধন করে গেছে। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে ৫০টি। নির্মাণ কাজ চলছে আরো ১৮০টি মডেল মসজিদের। ২০২০ সালে এ প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও তার মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।


