সংক্ষিপ্ত জাদুবিদ্যা পরিচয়

ইহুদি রহস্যবাদ ও সৃষ্টির গোপন নকশা
কাবালা হল ইহুদি গূঢ় দর্শন, যা ব্রহ্মাণ্ড, ঈশ্বর ও আত্মার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে। এটি ‘সেফিরোত’ নামক দশটি গূঢ় শক্তির মাধ্যমে জগতের গঠন ব্যাখ্যা করে। মধ্যযুগে লেখা কাবালার মূল বই জোহর। সেখানে বলে যে বাস্তব জগতের বাইরে আরও উচ্চতর মাত্রা রয়েছে। কাবালা অনুসারীরা ধ্যান, নাম-মন্ত্র ও সাংকেতিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে ঐশ্বরিক জ্ঞানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। অনেক গোপন সমাজ এবং জাদুবিদ্যা চর্চাকারীরা কাবালা থেকে প্রভাবিত হয়েছেন।

বোয়েমিয়ান গ্রোভ ও অন্যান্য গোপন সমাজ
বোয়েমিয়ান গ্রোভ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গোপন সংগঠন, যেখানে বিশ্বনেতা, ধনী ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা একত্রিত হন। এখানে অদ্ভুত আনুষ্ঠানিকতা, আগুনে পূজা এবং রহস্যময় নাটক অনুষ্ঠিত হয়। অনেকে বিশ্বাস করেন, এখানে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গোপনে নেওয়া হয়। এমন আরও গোপন সংগঠন রয়েছে। যেমন ফ্রিম্যাসন, ইলুমিনাটি ও স্কাল অ্যান্ড বোনস, যাদের সঙ্গে বিশ্ব শাসনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব জড়িত। তবে এদের কার্যকলাপ নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে।

ভয়ংকর গূঢ় গ্রন্থ গ্রিমোয়ার ও নিষিদ্ধ জাদুবিদ্যার বই
গ্রিমোয়ার হল এমন বই, যেখানে জাদুবিদ্যা, তন্ত্রমন্ত্র ও আত্মা আহ্বানের গোপন নিয়ম লেখা থাকে। কিছু বিখ্যাত গ্রিমোয়ার হলো নেক্রোনমিকন, লিবার মোনডাস ও গ্রিমোয়ার ভারুম। এগুলোতে ডেমন আহ্বান, অমরত্ব, এবং শয়তানের সঙ্গে চুক্তির পদ্ধতি বর্ণিত আছে। অনেক ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এসব বই নিষিদ্ধ করেছে, কারণ এগুলো অশুভ শক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করা হয়। তবুও বিশ্বের অনেক গোপন সংগঠন এবং জাদুকররা এই গ্রন্থগুলো অনুসরণ করেন।

সাত মহাদেশের প্রাচীন অকাল্ট চর্চা
বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে অকাল্ট চর্চার অদ্ভুত মিল দেখা যায়। আফ্রিকার ভুডু, ভারতের তন্ত্রবিদ্যা, ইউরোপের ড্রইডিক মন্ত্র ও আমেরিকার শামানিজম সবগুলোরই কিছু না কিছু মিল রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে এই জাদুবিদ্যার ধারাগুলো কি একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত, নাকি পৃথকভাবে উদ্ভূত? কিছু গবেষক মনে করেন, প্রাচীন যুগে জাদুবিদ্যার গোপন জ্ঞান মহাদেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিল। অন্যরা বিশ্বাস করেন এসব বিদ্যা মানুষের অবচেতন মানসিক শক্তিরই ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।

ক্রিপ্টিড ও শয়তানের প্রাণী
ক্রিপ্টিড বলতে এমন রহস্যময় প্রাণীদের বোঝায়, যাদের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়নি কিন্তু বহু লোক দাবি করে যে তারা এগুলো দেখেছে। বহু কথিত লোেচ নেস দানব স্কটল্যান্ডের এক রহস্যময় জলদানব, যা হাজার বছর ধরে মানুষের কল্পনায় বাস করছে। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার গ্রামে চুপাকাবরা নামে এক রহস্যময় প্রাণীর গল্প প্রচলিত, যা নাকি গবাদিপশুর রক্ত শুষে নেয়। বিজ্ঞানীরা এগুলোকে লোককাহিনি বা ভুল তথ্য বলে উড়িয়ে দিলেও অনেক মানুষ এখনও বিশ্বাস করে যে এরা বাস্তবে অস্তিত্বশীল।

সালেম ডাইনী বিচার
১৬৯২ সালে আমেরিকার সালেম গ্রামে কিছু নারীর বিরুদ্ধে ডাইনী হওয়ার অভিযোগ ওঠে। বলা হয়, তারা শয়তানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কালো জাদু চর্চা করত। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয় এবং আরও শতাধিক মানুষ কারারুদ্ধ হয়। পরে জানা যায়,
এসব অভিযোগ ছিল আতঙ্ক ও কুসংস্কারের ফসল। সালেম ডাইনী বিচার আজও ওকাল্ট ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি আধুনিক ডাইনীচর্চা (উইক্কা) ও নারীবাদী আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।

প্রাচীন সুমেরীয় অকাল্ট ধারা
সুমেরীয় সভ্যতার ধর্মে বলা হয় যে অনুনাকি নামে একদল দেবতা পৃথিবীতে নেমে এসে মানবজাতির সৃষ্টি করেছিল। কিছু গবেষক মনে করেন, এই কাহিনি আদতে ভিনগ্রহীদের ইঙ্গিত দেয়। প্রাচীন সুমেরীয় লিপিতে এমন কিছু সংকেত পাওয়া যায় যেগুলো আধুনিক বিজ্ঞানীদের মতে মহাবিশ্বের বিস্ময়কর তথ্য বহন করে। কিছু ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুসারে, বর্তমান মানব সভ্যতা আসলে এই অনুনাকিদের উত্তরসূরি এবং সরকারগুলো এই সত্য লুকিয়ে রেখেছে।

ডেমনোলজি
ডেমনোলজি হল শয়তান ও অশুভ আত্মাদের নিয়ে গবেষণা। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ ও অকাল্ট টেক্সটে অনেক ভয়ংকর ডেমনের উল্লেখ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, বেলজেবুব (শয়তানের অন্যতম প্রধান সহযোগী), আসমোডেয়াস (বাসনা ও লালসার ডেমন), লিলিথ (প্রাচীন ইহুদি ওকাল্টে উল্লেখিত রাতের আত্মা) ইত্যাদি। মধ্যযুগে ক্যাথলিক চার্চ এসব ডেমনের নাম উল্লেখ করে, যাতে মানুষ তাদের বিরুদ্ধে রক্ষা পেতে পারে। আজও অকাল্ট চর্চাকারীরা এই ডেমনদের শক্তি ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে গবেষণা করে চলেছে।

CIA কি সত্যিই অতিপ্রাকৃত গবেষণা করেছে?
১৯৭০-এর দশকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা CIA এবং সামরিক বাহিনী স্টারগেট প্রজেক্ট নামক একটি গোপন গবেষণা পরিচালনা করে।তারা দাবি করেছিল, কিছু বিশেষ ব্যক্তির মধ্যে টেলিপ্যাথি, সাইকিক স্পাইং ও দূরদর্শন (remote viewing) করার ক্ষমতা আছে। এই গবেষণার মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নের গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। যদিও সরকারিভাবে বলা হয় যে এই প্রকল্প সফল হয়নি, কিন্তু কিছু গবেষক মনে করেন সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে এবং এই গবেষণার কিছু ফলাফল আজও ব্যবহৃত হচ্ছে।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন