আধুনিক কর্মসংস্কৃতিতে অনেকেই মনে করেন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তবে গবেষণা বলে, নিয়মিত বিরতি নেওয়া বরং কাজের দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং মানসিক সুস্থতা উন্নত করে।দীর্ঘ সময় বিরতি ছাড়া কাজ করলে মানসিক ক্লান্তি, একাগ্রতার অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।মস্তিষ্কেরও বিশ্রামের প্রয়োজন হয়, যেমনটি শরীরের হয়। কয়েক মিনিটের বিরতিও মনকে সতেজ করে তুলতে পারে, যা একাগ্রতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায়।বিখ্যাত “পোমোডোরো টেকনিক” (২৫ মিনিট কাজ, ৫ মিনিট বিরতি) প্রমাণ করেছে যে, ছোট বিরতিগুলো কাজের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। অফিসের চেয়ারে দীর্ঘ সময় বসে থাকার বদলে কয়েক মিনিট হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং করা বা গভীর শ্বাস নেওয়া মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে। সহকর্মীদের সঙ্গে ছোটখাটো আলোচনা কর্মপরিবেশকেও উন্নত করে।
দীর্ঘ বিরতি, যেমন লাঞ্চ ব্রেক, সম্পূর্ণভাবে কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয়, যা কর্মীদের পুনরায় উজ্জীবিত করে। গবেষণা বলছে, অনেক সৃজনশীল ধারণা আসে তখনই যখন মন চাপমুক্ত থাকে। তাই কাজের মাঝে বিশ্রাম নেওয়া মানসিক চাপ কমাতে ও নতুন চিন্তাধারার বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে।তবে অনেকেই মনে করেন, বিরতি নিলে তারা অপ্রোডাক্টিভ বলে মনে হতে পারেন। অথচ বাস্তবতা হলো কৌশলগত বিরতি নেওয়া অলসতার চিহ্ন নয় বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে কর্মদক্ষতা বজায় রাখার কৌশল। তাই কর্মক্ষেত্রে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা উচিত যেখানে বিশ্রামকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।


