সেমিকন্ডাক্টর শিল্প অত্যন্ত জটিল এবং এতে শ্রম বিভাজনের প্রয়োজন রয়েছে, তাই একক কোনো দেশের এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের শীর্ষ এক প্রযুক্তি কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের চিপ আধিপত্যের সমালোচনার জবাবে শনিবার তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প সম্প্রতি অভিযোগ করেন, তাইওয়ান পুরো চিপ শিল্পকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং তিনি মার্কিন চিপ উৎপাদন পুনরুদ্ধার করতে চান।
শুক্রবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ফেসবুকে এক পোস্টে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে লেখেন- তাইওয়ান বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের গণতান্ত্রিক সরবরাহ চেইনে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে থাকবে। ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কাউন্সিলের প্রধান উ চেং-ওয়েন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। উ চেং-ওয়েন লেখেন, ‘কীভাবে আমরা এ সাফল্য অর্জন করেছি? এটি কোনো দেশের কাছ থেকে আমরা সহজেই পাইনি।’ ১৯৭০-এর দশক থেকে তাইওয়ান সরকার কীভাবে এ খাতকে গড়ে তুলেছে এবং ১৯৮৭সালে বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা কোম্পানি টিএসএমসি প্রতিষ্ঠায় কীভাবে সহায়তা করেছে তা ব্যাখ্যা করেন তিনি।
চেং-ওয়েন জানান, প্রতিটি দেশ চিপ শিল্পের একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষ জাপান রাসায়নিক ও সরঞ্জাম তৈরিতে দক্ষ, যুক্তরাষ্ট্র ডিজাইন ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দক্ষ আর তাইওয়ান চিপ উৎপাদনে বিশ্ব নেতা। সেমিকন্ডাক্টর শিল্প অত্যন্ত জটিল এবং এতে নির্দিষ্ট দক্ষতা ও শ্রম বিভাজন প্রয়োজন। তাইওয়ান ‘বন্ধুসুলভ গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে’ সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ চেইনে তাদের যথাযথ ভূমিকা পালনে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানান চেং-ওয়েন। তিনি বলেন, এই শিল্পের সাফল্য কোনো একক দেশের অর্জন নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বি-ি নয়োগের ফলাফল।
উ চেং-ওয়েনের মতে, বিশ্বের প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পারস্পরিক সহযোগিতা ও উদ্ভাবনের ওপর। কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত বিনিময়ের মাধ্যমেই সেমিকন্ডাক্টর খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।


