যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই দেশটির আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএইডের প্রতি রুষ্ট। প্রথম মেয়াদেও তিনি সংস্থাটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন প্রশাসনের চাপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ‘ডিপ স্টেটকে’ ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে শুরুতেই কঠোর হয়েছেন ইউএসএইডের ওপর। তিনি সংস্থাটিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী এই সংস্থার সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কর্মীসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যয় সংকোচন নীতির প্রতিফলন ঘটাতে চাইছে। ইউএসএইড সংক্রান্ত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ট্রাম্প দিয়েছেন বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ককে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার ছোট করার উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইউএসএইড চালায় ‘চরমপন্থী উন্মাদরা’, তাই তাদের সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। ইলন মাস্ক সংস্থাটিকে ‘অপরাধী সংগঠন’ বলে উল্লেখ করেন। যদিও এমন দাবির পক্ষে তিনি কোনও তথ্য প্রমাণ দেননি। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডোমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির উদ্যোগে ১৯৬১ সালে ইউএসএইড প্রতিষ্ঠিত হয়। স্নায়ু যুদ্ধের সময় বিদেশি সহায়তা সমন্বয়ের জন্য এটি গঠিত হয়েছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত প্রভাব মোকাবেলা করা।ইউএসএইড যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০% বিদেশি সহায়তা পরিচালনা করে। ২০২৩ এ সংস্থাটি ৪৩.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিতরণ করেছে।ইউএসএইড কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তা করে দারিদ্র্য, রোগ ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেয়। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিশ্ব বাণিজ্যে অংশগ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করে।
২০২৩ সালে সংস্থাটির প্রধান সহায়তা গ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল ইউক্রেন, ইথিওপিয়া, জর্ডান, কঙ্গো, সোমালিয়া, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া। ট্রাম্প গত ২০ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশে অধিকাংশ বিদেশি সহায়তা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেন। সেসময় তিনি বলেন, “বিদেশি সহায়তা শিল্প ও প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তা আমেরিকার মূল্যবোধের বিপরীত। এগুলো বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।” এক মেমোতে ওয়াশিংটন ডিসি প্রশাসন ইউএসএইড কর্মীদের ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সহায়তা বরাদ্দের পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।
এসব পদক্ষেপের কারণে থাইল্যান্ডের শরণার্থী শিবির থেকে শুরু করে ইউক্রেনের যুদ্ধপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক সংগঠন এবং জাতিসংঘের এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, তারা খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হতে পারে। ইউএসএইড সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটিকে পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে একীভূত করা একটি বড় পরিবর্তন হবে। অতীতে ইউএসএইড এমন দেশগুলোতে মানবিক সহায়তা দিয়েছে, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। যেমন ইরান ও উত্তর কোরিয়া। সূত্রটি জানিয়েছে, এই মানবিক সহায়তার কারণে কখনও কখনও সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। তবে কার্যক্রম শুধু রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত হলে এই সহায়তা থেকে সুবিধা নাও মিলতে পারে।


