ফ্রিডরিখ মেৎস-এর রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন জার্মানির নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। ২৮.৬% ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে থাকলেও তারা তাদের প্রত্যাশিত ৩০ শতাংশের চেয়ে কম ভোট পেয়েছে।এই নির্বাচনে আরেকটি জয়ী পক্ষ হলো কট্টর ডানপন্থী অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি। তারা ২০.৮% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। যদিও তারা আরও ভালো ফল আশা করেছিলো। চার বছর আগের চেয়ে এএফডির সমর্থন বেড়েছে ১০%। AFD-র অধিকাংশ ভোটই এসেছে সাবেক ‘কমিউনিস্ট’ পূর্ব জার্মানি থেকে।সব মূলধারার দল এফডির সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায়, তারা পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠতে চলেছে। জার্মানির মূলধারার দলগুলোর জন্য কট্টর ডানপন্থীদের সঙ্গে জোট গঠন করা এখনও ‘একটি নিষিদ্ধ বিষয়’ বা ‘ফায়ারওয়াল’ হিসাবে বিবেচিত।
মেৎসের সবচেয়ে সম্ভাব্য পার্টনার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে। তাদের ভোটের পরিমাণ ১৬.৪%। গ্রিন পার্টি পেয়েছে ১৩.৫% ভোট।বামপন্থী ডি লিংকে (The Left) গতবারের প্রায় দ্বিগুণ ৮.৮% ভোট পেয়েছে। ডি লিংকের প্রভাবশালী নেত্রী Sahra Wagenknecht দল ছেড়ে নিজের নামে নতুন দল (BSW) তৈরি করে ৪.৭% ভোট পেয়েছেন ৫ শতাংশের কম ভোট পাওয়ায় সংসদে কোনও আসন পাবে না BSW।এবার ৮৩% মানুষ ভোট দিয়েছে, যা ১৯৯০ সালে জার্মান পুনঃএকত্রীকরণের পর আর দেখা যায়নি। ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল অভিবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকট।
ফ্রিডরিখ মেৎসের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটরা বয়স্ক ভোটারদের ওপর তাদের নির্ভরতা এবারেও অব্যাহত রেখেছেন। অন্যদিকে ১৮-২৪ বছর বয়সী ভোটাররা এএফডি ও অন্য বাম দলের প্রতি বেশি উৎসাহ দেখিয়েছে।এবারের নির্বাচনে এএফডিকে প্রকাশ্যেই সমর্থন যুগিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যা জার্মান ভোটারদের দারুণভাবে হতাশ করেছে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেৎসের জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন-এটা প্রমাণ হয়েছে যে, জ্বালানি ও অভিবাসনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আমেরিকানদের মতো জার্মানরাও ক্লান্ত।
মেৎস বলেছেন-তার অগ্রাধিকার হবে দ্রুত ইউরোপকে শক্তিশালী করা যাতে করে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত হয়ে ধাপে ধাপে তারা সত্যিকার স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেন।মের্স এমন এক সময়ে ক্ষমতায় আসছেন, যখন ইউরোপ একটি সংকটময় অবস্থায় রয়েছে। ইউরোপে কট্টর জাতীয়তাবাদীদের উত্থান ঘটছে। ট্রাম্প দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থাকে উলটপালট করে দিয়েছেন, ইউরোপের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে মার্কিন প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন করেছেন। ফলে, মেসের চ্যান্সেলর হিসেবে মেয়াদকাল স্নায়ুযুদ্ধের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
২০২১ সালে অ্যাঙ্গেলা মের্কেল সরে দাঁড়ানোর পর মের্স হবেন জার্মানির প্রথম মধ্য-ডানপন্থী নেতা। যদিও তারা একই দলের সদস্য, তবে তারা দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং নির্বাচনী প্রচারণার সময় মের্কেল তাঁকে কট্টর ডানপন্থীদের নীতিতে ঝুঁকতে দেখে সমালোচনা করেছেন, পাশাপাশি পার্লামেন্টে এএফডির ভোটের ওপর নির্ভর না করার দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি ভাঙার জন্যও তাঁকে তিরস্কার করেছেন।২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন সিডিইউর মের্কেল। অভিবাসন প্রশ্নে তার উদার নীতির কারণে ২০১৫ সাল এবং পরবর্তী বছরগুলো মিলিয়ে ১৩ লাখ শরণার্থী ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে আশ্রয় পেয়েছিল।
কিন্তু এরপর গত বছরগুলোতে ঘরে-বাইরের নানা ঘটনাপ্রবাহে ভোটারদের মন রক্ষায় সিডিইউ তার অবস্থান থেকে সরেছে। ২০২৪ সালে ছুরি আক্রমণের বেশ কয়েকটি ঘটনায় অভিবাসীদের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের অভিবাসন নীতি কঠোর করার পক্ষে এখন বেশিরভাগ জার্মান।মূলত চরম ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ডের (এএফডি) এর উত্থানের কারণেই ডিসিইউ মধ্য ডান অবস্থান থেকে আরও ডান দিকে সরছে বলে মনে করা হচ্ছে।


