প্রত্নসম্পদ এবং শিল্পসম্পদের পাচার এবং সুরক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অরক্ষিত অবস্থায় পড়া প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটগুলোর মাধ্যমে প্রত্নসম্পদের পাচার এবং চুরি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে, হাসিনা সরকারের পতনের পর বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা, যেমন বেনাপোল, নওগাঁ, পঞ্চগড়, ও দিনাজপুরে পাচারের ঘটনা বেড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যেমন বিজিবি, র্যাব, ও পুলিশ এসব কার্যক্রমে যুক্ত হলেও তাদের তৎপরতা সীমিত এবং যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন এখনো -হয়নি।
প্রত্নসম্পদ এবং শিল্পসম্পদের পাচারের অন্যতম প্রধান রুটগুলো সীমান্তবর্তী অঞ্চলের গ্রামাঞ্চল বিশেষ করে নওগাঁ এবং দিনাজপুর। এসব এলাকার সুরক্ষা পরিস্থিতি শিথিল হয়ে যাওয়ায় পাচারকারীরা দ্রুত এসব সম্পদ নিয়ে চলে যাচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে। যেখানে প্রাচীন নিদর্শনের বড় বাজার রয়েছে। এছাড়া রাজধানীসহ অন্যান্য পুরনো জনপদে প্রত্নসম্পদও বিপন্ন অবস্থায় পড়েছে। বিশেষ করে জমিদারবাড়ি, পুরানো মঠ এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেরিতে হলেও এসব সমস্যার সমাধানে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু আইন-প্রণয়ন এবং যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব দেশীয় প্রত্নসম্পদ রক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রত্নসম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইন সংশোধন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করা উচিত।
এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ পাচার হলে তা দেশের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়াবে। দেশীয় প্রত্নসম্পদের সুরক্ষা শুধু আইন – শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব, যেখানে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণেরও সচেতনতা এবং সহযোগিতা অপরিহার্য।


